দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি

ভর্তি-সেমিস্টারসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফি কমানোর দাবিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২য় দিনের মতো আন্দোলন শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মুহুর্মুহু স্লোগানে আন্দোলনস্থল মুখরিখ রাখেন তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে নোটিশ আকারে তা প্রকাশ করতে হবে। তার আগে আমাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না এবং যথারীতি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকবে। আমরা প্রশাসনকে সব বিষয়ে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রতি সেমিস্টারের বেতন ১২০০ টাকার বদলে ৬০০ টাকা, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ২০০ টাকার বদলে ২০ টাকা, ছাত্র কল্যাণ ১৫০ টাকার বদলে ৫০ টাকা, আইডি কার্ড ৪০০ এর বদলে ৫০, চিকিৎসা ফি ২০০ এর বদলে ৫০, পরিবহন ফি ৬০০ এর বদলে ৩০০, রোভার স্কাউটস ও বিএনসিসি ১০০ এর বদলে ৪০, সিলেবাস ১৫০ টাকার বদলে ৫০ টাকা করতে হবে। আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেট, স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং, বিভাগ উন্নয়ন, কেন্দ্র ফিসহ সকল অমূলক ফি বাতিল করতে হবে। এছাড়া প্রতি ক্রেডিট ফি ৫০, প্রবেশপত্র ফি ৫ টাকাসহ হলের সিট ভাড়া ৭৫ এবং সংস্থাপন ফি ৭৫ টাকা করতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। আগামী ১ নভেম্বর গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটভুক্ত বাণিজ্য অনুষদের ৫৯০ প্রার্থীর ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে ভবনটি এখন তালাবদ্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষা ব্যাহত করতে চাই না। আশাকরি তার আগে প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিবে। তবে দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি আন্দোলনস্থলে এসে বিকাল ৫ টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন। প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান জানান, আগামীকাল শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে উন্মুক্ত আলোচনা করবেন। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকল দাবি নিয়ে তিনি কথা বলবেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলব এবং বিস্তারিত আলোচনা করব। বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপন করতে হবে, এজন্য পুরো বিষয়টা সমাধানে হয়তো দুই সপ্তাহের মত সময় লাগতে পারে।’

প্রসঙ্গত, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বর্ধিত ফি কমানোর দাবিতে গত মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাত থেকেই আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো