তারা বংশানুক্রমে ভুয়া ডাক্তার!

মৃত মো. ফকরুল ইসলাম ওরফে ফকু। তিনি এলাকায় ফকু ডাক্তার হিসাবে পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশুনা বা কোন শিক্ষাগত যোগ্যথা ছাড়াই তিনি ছিলেন ডাক্তার। একইভাবে তার উত্তরাধিকারী ছেলে ও নাতিও ডাক্তার। ওই বাড়ির নাম ডাক্তার বাড়ি। ফকু ডাক্তারের ছেলে মো. আবুল হোসেনও ডাক্তার। এলাকায় যার পরিচিতি আবু ডাক্তার নামে। সকল ধরেন চিকিৎসা করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। আবুল হোসেনের ছেলে মো.আনিচুর রহমানও ডাক্তার। এদের কারোই নেই এমবিবিএস ডিগ্রী। বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত তো দুরের কথা। তারা সবাই বংশানুক্রমে প্রাপ্ত ডাক্তার। এমন এক ভূয়া ডাক্তার পরিবারের খোঁজ মিলেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের উত্তর মমিনপুর গ্রামে। উত্তর মমিনপুরের কালামিয়ার বাজারে তাদের চেম্বার ও ফার্মেসি রয়েছে। ওই ফার্মেসিরও সরকারি অনুমোদন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবুল হোসেন ওরফে আবু ডাক্তার তার বাবা ফকু ডাক্তার কাছ থেকে ডাক্তারি শিখেছেন। তবে চিকিৎসা দেওয়ার মত কোন সনদ বা অনুমোদন নেই তার। তবু গ্রামের অসহায় সাধারন মানুষদের সাথে করছেন প্রতারণা। প্রয়োগ করছেন এন্টিবায়োটিক ওষুধ।

আবু ডাক্তারের ছেলে আনিচুর রহমানেরও ডাক্তার বনে চলে গেছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউড অফ হেল্থ এন্ড টেকনোলজি, বরিশাল শাখা থেকে প্যরামেডিকাল টেকনোলজির উপর ১বছর মেয়াদি কোর্স করেছেন। এ কোর্স করে চিকিৎসা দেওয়ার কোন বৈধতা নেই তার। কিন্তু আনিচুর রহমান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাধারন গরীব মানুষদের সাথে প্রতারণা করছেন। দিচ্ছেন ভূয়া চিকিৎসা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবুল হোসেন ওরফে আবু এবং তার ছেলে আনিচুর রহমান সকল রোগের চিকিৎসা করছেন। জ্বর থেকে শুরু করে হাড় ভাঙার চিকিৎসাও করেন তারা। যেখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন! সেখানে মানুষদের জিম্মি কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এ বাপ-ছেলের ভূয়া চিকিৎসায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে সিফাত নামের ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে। মা হারা ওই শিশু এখন মানবতার জীবন-যাপন করছেন।

ওই শিশুর বাবা মো. রাসেল ফকির জানান,‘ তার ছেলে নারিকেল গাছের ৩/৪ফুট উচ্চতা থেকে পড়ে হাতে ফাটল ধরে। আবু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তারা কোন রকম পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই হাতে অস্বাভাবিকভাবে ব্যান্ডেস করে দেয়। পরে তার ছেলের হাত ফুলে উঠে এবং রক্ত স ালন বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা করেও হাত রক্ষা করা হয়নি। পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় তার ছেলের।

আবুল হোসেন ও তাঁর ছেলে আনিচুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তারা চিকিৎসা দেওয়ার কোন সনদ বা সরকারি অনুমোদন দেখাতে পারেনি। ভুল চিকিৎসার শিকার শিশু সিফাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, সিফাতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান -মেম্বারদের নিয়ে বসে তার ক্ষতি পূরণ দিয়ে দেওয়া হবে।

এবিষযে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘এভাবে চিকিৎসা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল আমিন বলেন,‘ খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম.এ হান্নান/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো