৫৯১ দিন পর হলে ফিরেছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

সরকারী নির্দেশনায় দীর্ঘ ৫৯১ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ খুলে দিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসন।

রোববার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০ টা থেকে হলে উঠা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ১ টি ছাত্র হল (আব্দুল মালেক উকিল হল) ও ২ টি ছাত্রী হলে (বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বিবি খাদীজা হল) কমপক্ষে এক ডোজ টিকা দেওয়া ও হলের বৈধ কাগজপত্র দেখানো সাপেক্ষে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে তোলা শুরু করে হল প্রশাসন।

আবাসিক হল খুলে দেওয়া উপলক্ষে নোবিপ্রবি প্রশাসন সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ দিদার- উল আলম। এ সময়ে তিনি ফুল ও উপহার দিয়ে আব্দুল মালেক উকিল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন।

বরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমাদের শিক্ষার্থীদের আমরা হলে ফিরে আনতে পেরেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে’। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. মেহেদী হাসান রুবেল, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘ দিন পর হলে ফিরে আব্দুল মালেক উকিল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন বলেন,”অনেকদিন পর হলে ফেরার অনুভূতি সত্যি অন্যরকম।কয়েকবার নোয়াখালী আসা হলেও ক্যাম্পাসে থাকার যে এক মধুর পরিবেশ তা পাইনি।চাই আবার প্রাণ ফিরে আসুক নোবিপ্রবিতে। আড্ডা,গান ও কলরবে মাতুক ১০১ একর।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থী ইরিনা আজাদ বলেন,” দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর হলে ঢুকতে পেরে খুব আনন্দিত লাগছে।অনেকের সাথে দীর্ঘ দিন পর দেখা হলো। অনেকদিন পর ক্যাম্পাস তার প্রাণ ফিরে পাইতেছে “।

করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে হল ছেড়ে যায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে অফলাইন এবং অনলাইন দুই মাধ্যমে ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেও এ পর্যন্ত হলে থাকার সুযোগ মেলেনি আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে সরজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর হল সমূহে শিক্ষার্থী তোলার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ দুপুর থেকেই চালু হবে হলের ক্যান্টিনসমূহ। এমনটাই পরিচালনা কারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

দীর্ঘদিন পর হলে উঠে শিক্ষার্থীদের যাতে কোন ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সব হল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রভোস্টবৃন্দ।

এ বিষয়ে সাবেক স্পীকার আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. মেহেদী হাসান রুবেল জানান, ‘দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আমাদের শূন্যস্থান পূরণ হবে এবং হল পরিপূর্ণ হবে এতে আমরা খুবই আনন্দিত। শীতকাল সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা করে রাখা হচ্ছে। আনন্দের সাথে হলে থাকতে পারবে শিক্ষার্থীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমাদের সচেতন শিক্ষার্থীরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।’

এছাড়া বঙ্গমাতা হলের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে প্রভোস্ট মো শাহীন কাদির ভূঁইয়া বলেন, ‘হল কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মে শিক্ষার্থীরা এসে হলে উঠতে পারবে। তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে৷ ছাত্রীরা এসে ঠিকভাবে হলে থাকতে পারবে।’

মোঃ ফাহাদ হোসেন/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো