এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হবে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১১ বছর ৯ মাস ৯দিন পর আগামী (২০ নভেম্বর) কাঙ্খিত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য স্বাক্ষরিত শনিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। এদিকে তিন মাসের জন্য গঠিত জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি ৪ বছর ৬ মাস সময় পার করেছে।

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক তানভীরুল ইসলাম হিমেল জানান, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের ১০৮টি ইউনিট রয়েছে। ১২টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র মধুপুর উপজেলার ছাত্রলীগ কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে বাসাইল উপজেলা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, নাগরপুর উপজেলা, গোপালপুর উপজেলা, ভূঞাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের। সখিপুর আর মির্জাপুরের কমিটি চলছে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে। দেলদুয়ার, ধনবাড়ি, কালিহাতি ও ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগ চলছে পুরাতন কমিটি দিয়ে।

সম্মেলনের বিষয়ে তিনি আরও জানান, আমরা আজ সম্মেলনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে আগামীকাল সোমবার প্রেস কনফারেন্স করে সবাইকে অবহিত করবো। তারপর বর্ধিত সভা করা হবে এবং সকল উপজেলায় গিয়ে কর্মী সভা করবো। আগামী ২০ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন সফল করার জন্য সকলকে সাথে নিয়ে কাজ শুরু করবো।

বর্তমান আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শফিউল আলম মুকুল জানান, আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপিসহ জেলার সকল এমপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১০ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি। ওই সম্মেলনে নাজমুল হুদা সভাপতি এবং ইসতিয়াক আহমেদ সাধারণ সম্পাদক হন।

এরপর গত ২০১৫ সালের ২৪ জুন সম্মেলন ছাড়াই ইশতিয়াক আহমেদকে সভাপতি এবং শামীম আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হয়। কিন্তু এই কমিটি প্রতিরোধ ও তোপের মুখে পড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছেই। এরপর বিগত ২০১৭ সালের ১৯ মে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আগের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলকে আহবায়ক ও তানভীরুল ইসলাম হিমেল, রনি আহমেদ, শফিউল ইসলাম মুকুল, রাশেদুল হাসান জনি, শামীম আল মামুনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। আর সদস্য করা হয় ৪৬ জনকে।

এই আহবায়ক কমিটিকে তিন মাসের জন্য অনুমতি দেয়া হয় এবং তাদের সম্মেলন করতে বলা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে আহবায়ক কমিটি ছাত্রলীগের সম্মেলন ও পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি।

হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো