৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ হারুনের স্বীকৃতি দাবি

‘জয় বাংলা, তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি, জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব-এমন স্লোগানে সে দিন রাজ পথ উত্তাল হয়ে উঠে। তখনই কণ্ঠরোধ করতে গুলি চালায় পুলিশ। সেই গুলিতে নিহত হন আজিজুল হক হারুন। তখন গণঅভ্যুত্থানে ঢাকায় নিহত আসাদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও আজও শহীদ হারুনের স্বীকৃতি মেলেনি।

জানা গেছে, হারুন নান্দাইল উপজেলার ছামারুল্লা গ্রামের মিয়া বক্স সরকারের পুত্র। অভ্যুত্থানের সময় হারুন গৌরীপুর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব সরকার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সারা দেশের মত উত্তাল ছিল গৌরীপুর। ২৭ জানুয়ারি তীব্র প্রতিবাদে মিছিল সহকারে রাস্তায় নেমে আসে সর্বস্থরের জনতা। সেই মিছিলে অংশ নেয় কলেজ পড়ুয়া টগবগে যুবক আব্দুল আজিজ হারুন। পুলিশের অস্ত্রের মুখেই চলছিল মিছিল। মিছিলকারীদের লক্ষ অভিন্ন- দাবি আদায়, অস্ত্রের ভয় তাদের কাছে তুচ্ছ। মিছিল চলাকালে হঠাত পুলিশের একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় ১৬ বছরের কলেজ ছাত্র হারুনের বুকে। ওই গুলি হারুনের বুক ছিদ্র করে গিয়ে বিধে একটি কাঁটাল গাছে। মুহুর্তেই প্রাণ হারাণ হারুন।

হারুনের ছয় ভাই তিন বোনের মধ্যে বেচে আছে একমাত্র ভাই শফিকুল আলম চান মিয়া (৭০)। তিনি বলেন, ৬৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ২টার দিকে ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে নান্দাইলের গ্রামের বাড়ি থেকে গৌরিপুর গিয়ে ভাইয়ের লাশ দেখতে পাইনি। তারা আমার ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে ফেলে। পরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ময়মনসিংহ থেকে মুচলেখা দিয়ে ভাইয়ের লাশ নিয়ে নান্দাইলে আসি। তখন পুলিশি প্রহড়ায় লাশ দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন আমার ভাই সহ ঢাকায় আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় ভাবে আসাদের মৃত্যুর ঘটনাটি স্থান পেলেও আমার ভাইয়ের খবর কেউ রাখেনি। প্রিয় দেশমাতৃকার জন্য আতœাহুতি দেয়ার এত বছর পরও অধ্যাবধি স্বীকৃতি মেলেনি এ বীর সন্তানের। এখনো অরক্ষিত হারুনের স্মৃতি বিজড়িত স্থানটি।

গৌরিপুরে ভাইয়ের নামে পার্ক সহ কয়েকটি স্মৃতি থাকলেও নিজ উপজেলা নান্দাইলে তার কোন চিহৃ নেই। সর্বশেষ আমাদের ভাইয়ের কবরের পাশে পাকা সড়কটি হারুনের নামে নাম করনের জন্য একাধিক সাংসদকে অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি। এই আতœত্যাগের স্বীকৃতি না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে বাবা-মা ইহলোক ত্যাগ করেছেন।

ছামারুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির, সুলতান উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশে ছামারুল্লাহ গ্রামে শহীদ হারুন চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন। কবরের পাশে এসে এখন আর কেউ হারুনকে স্মরণ করেন না। গৌরিপুরে তার মৃত্যুর স্থানের পাশে সরকারি যে জমিটির নাম রাখা হয়েছিল হারুন পার্ক, সেখানে একটি স্মৃতি নাম ফলক ও নান্দাইলে কবরের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কটি হারুনের নামে নাম করন করা হলে কিছুটা হলেও শেষ স্মৃতি ধরে রাখা যাবে এই বীর সেনার।

মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো