সুদ কারবারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের ঘরগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার সুদ কারবারি মো. হেলাল হোসেন এর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারকে তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (অভিযোগ ও তথ্য শাখা) জিন্নাতুল আরা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ওই চিঠিতে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সুদ কারবারি মহাজন হেলাল হোসেন এর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন যাবত সুদের কারবারের জরিত মো. হেলাল হোসেন। তিনি যে কোনো ব্যাংকের চেকের পাতা রেখেই দিচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোন। বিনিময় নিচ্ছেন তাদের কাছ থেকে সুদ আসলে কয়েকগুণ টাকা। আসলেরও কয়েকগুণ বেশি সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। এদিকে সুদের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেই উল্টো মামলার স্বীকার হচ্ছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ কেউ সময় মতো সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে পূর্বে নিয়ে রাখা ফাঁকা ব্যাংক চেকে তিনি তার ইচ্ছা মতো টাকা বসিয়ে নেন। এভাবে তিনি অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে তার সুদের ব্যবসার ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করে দিয়েছেন। ওই মহাজন বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা কয়েকশ’ অসহায় পরিবারের মাঝে উচ্চহারে লোন দিয়ে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সুদে লোন দেয়ার সময় নিরুপায় গ্রহীতাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কৌশলে নিয়ে নেন একাধিক স্বাক্ষরযুক্ত সাদা চেক।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চকরসুল্লা গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. মাসুদ রানা বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক বছর পূর্বে ১০ লক্ষ টাকা চড়া সুদে লোন নেন তিনি। তার কাছ থেকে চারটি ফাঁকা চেক ও নেয় হেলাল হোসেন। প্রথম কয়েক মাস ঠিক ভাবে সুদ পরিশোধ করি। পরে নগদ টাকা না থাকায় পৌরসভায় নিজ ক্রয়কৃত ৪ শতাংশ জমি তার স্ত্রীর নামে ও মহিষলুটী মৎস্য আড়ৎ ২০ লক্ষ টাকা মূল্যে ধরে হেলাল হোসেন রেজিস্ট্রি করে নেয়। তারপরও সে আমার দেয়া সাদা চেকে ইচ্ছে মতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে মোট ১ কোটি ৯০ লক্ষ ১০ হাজার ৫’শ টাকা বানিয়ে নাটোর আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এমন ভুক্তভোগী শুধু মাসুদ রানা নয় তিনি প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করেছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এম এ মালেক/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো