প্রকাশ্যে চাইনিজ দুয়ারি, দেখে না দৌলতপুর প্রশাসন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হয় মাছ শিকারের অননুমোদিত জাল চাইনিজ দুয়ারি। আর এ জালের ফাঁদ দিয়ে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করে বিভিন্ন চক্র। বিজ্ঞান বলছে, চাইনিজ দুয়ারির ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী যা প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। এসব খবর বেশ পুরনো। সম্প্রতি স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মোটা দাগে খবর প্রকাশিত হয় দৌলতপুর উপজেলায় এই জালের (চাইনিজ দুয়ারি) দৌরাত্ম নিয়ে।

এখবর ছড়িয়ে পড়লে চাইনা দুয়ারি নিশ্চিহ্ন করতে অভিযানে নামার কথা জানান দৌলতপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা খন্দকার সহিদুর রহমান। কিন্তু তেমন ফল না আসায় উদ্বেগের কথা জানান এলাকার সচেতন সমাজ। তারা বলছেন, চুরি করে নয়, প্রকাশ্যে চাইনিজ দুয়ারি বিক্রি,পরিচর্যা, ও মাছ নিধন চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এমনকি এই জালের ক্ষতিকর দিক প্রসঙ্গেও সচেতন করা হচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের।

মূলত চাইনিজ দুয়ারি মাছ ধরার এক ধরনের ফাঁদ। ডিম-মাছ, পোকামাকড় কারোরই রেহায় নেই চাইনিজ দুয়ারি থেকে। নদীর পানিপ্রবাহেও বাধার সৃষ্টি করে এই জাল। এছাড়া মাছের বংশ বিস্তারে বিঘ্ন ঘটে বলেও গবেষণা ফল রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা ও মাথাভাঙা নদীতে কিছু মৎস্য শিকারি নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন এই ফাঁদ দিয়ে। উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারি, রামকৃষ্ণপুর, খলিসাকুণ্ডি ও প্রাগপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই চাইনিজ দুয়ারি ফাঁদ দিয়ে ধরা দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি হয় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব ব্যাক্তিরা গণমাধ্যমের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের একাধিক জেলে জানিয়েছেন, নদীতে পেতে রাখা কিংবা ডাঙায় পরিচর্যা চালানো চাইনিজ দুয়ারি সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব। এর আকার আকৃতি ও ধরণ সম্পূর্ন আলাদা।

উপজেলার পদ্মায় নিয়মিত মাছ ধরেন এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রকারভেদে চাইনিজ দুয়ারির দাম ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে আগে এর দাম কিছুটা কম ছিল। এখন ব্যবহার বাড়ায় দামও বেড়েছে। দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাইনিজ দুয়ারি তৈরি হলেও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় পার্শ্ববর্তী রাজশাহী ও কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকেই বেশি কেনা হয়।

এর আগে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লুকিয়ে এই ফাঁদ অধিক মূল্যে বিক্রি় করে আসছেন। তবে এর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার সহিদুর রহমান সাংবাদিকদের এদফায় জানান, সম্প্রতি দেশব্যাপী মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের অংশ হিসাবে পরিচালিত অভিযানে কারেন্ট জাল ও ইলিশের পাশাপাশি ১শ’ মিটারের মতো চাইনিজ দুয়ারি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। নানা ব্যস্ততার কারনে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি বলেও কারন দেখান তিনি।

আনুষ্ঠানিক এসব অভিযানে ৩০ হাজার মিটারের বেশি কারেন্ট জাল জব্দ হলেও চাইনিজ দুয়ারি চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শুধুমাত্র বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে উপজেলা মৎস অফিসের সুদৃষ্টি প্রার্থনা করছেন তারা। বলছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমের বিশেষ আনুষ্ঠানিক অভিযান ছাড়া সারাবছর কোনই নজরদারি নেই নদ-নদীতে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ইতোমধ্যেই চাইনিজ দুয়ারি প্রতিরোধে জেলার সব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর কুষ্টিয়াসহ দেশের ৩৮টি জেলায় পরিচালিত হয় মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান। এতে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও কিছু ইলিশ জব্দ করে প্রশাসন।

চাইনিজ দুয়ারি প্রসঙ্গ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে এলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। লাগাতার ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছ আর জলজ প্রাণী। চলতি সপ্তায়ও দেখা গেছে নদ-নদীতে চাইনিজ দুয়ারির অবৈধ ব্যবহার।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো