১৯ মাস পর ১৯ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফিরলো ক্যাম্পাসে

দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। আবারো মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। লাল-নীল বাসে করে শহর থেকে ক্যাম্পাসের দিকে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৯ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সকলের পদচারণায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

গত বছরের ১০ এপ্রিল করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পরায় অন্যান্য বিশ্বদ্যালয়ের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও (কুবি) তাদের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখে। অবশেষে মহামারী পরিস্থিতি সামলে মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) দীর্ঘ ১ বছর ৬ মাস ২৩ দিন পর খুলেছে কুবির শ্রেণি কার্যক্রম।

করোনার বন্ধের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিনে বিভিন্ন বিভাগ তাদের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। এমনি একটি বিভাগ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। তারা দুপুর ১২ টায় মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়ার মাধ্যমে তাদের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করে। এছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে মাস্ক ও হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ওয়াফি বলেন, দীর্ঘদিন পর সশরীরে আজ ক্লাস করতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। ভার্চুয়ালি ক্লাস আর সশরীরের ক্লাস করা অনেক পার্থক্য।

এদিকে গতকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, বাবুই চত্বর, সানসেট ভ্যালি, মুক্তমঞ্চ, গোলচত্বরসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শহীদ মিনারের রাতের আড্ডা, বিকালে খোলা ক্যাম্পাসে পাখি হয়ে উড়ে বেড়ানো কিংবা রাতে ভিসি টঙে গিটারের সুরে চায়ে মুখ ভেজানো সবই মেতে ওঠেছে আগের মতো। সবাই একে অপরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ে ব্যস্ত। কেউ বন্ধুর সঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন আবার বন্ধুরা মিলে গানের আসর বসিয়েছেন টঙ দোকানে।

দীর্ঘদিন পর শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে পেরে অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্লাস শুরু হওয়ায় আমরাও আনন্দিত। চেনা মুখ গুলো আবার সরাসরি দেখতে পাচ্ছি এর চেয়ে ভালো বিষয় আর হয় না। করোনাকালীন বন্ধে যে সেশনজটে শিক্ষার্থীরা পরেছে, তা কাটিয়ে আবার তাদের নিয়ে এগিয়ে যাবো এই আশা রাখি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষকের পরিচয় শিক্ষার্থীরা৷ তারা আবার আগের মতো ক্লাস করবে, আড্ডা দিবে৷ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি খেয়াল রেখেই আমরা শ্রেণি কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবো।’

এদিকে ক্লাস শুরু হওয়ার প্রথমদিন আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পরিবহন সেবা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিচ্ছি, যাতে তারা পূর্বের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮১ তম সিন্ডিকেট সভায় ২৭ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ ও ২ নভেম্বর থেকে সশরীরের শ্রেণি কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় কুবি প্রশাসন।

সাজ্জাদ বাশার/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো