কেউ নেই ইমরান এইচ সরকারের পাশে

শাহবাগের সেই উত্তাল দিনগুলোতে নেতৃত্ব দিয়ে রাতারাতি গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে সবার পরিচিত ব্যক্তিতে পরিণত হন অখ্যাত এক চিকিৎসক যুবক। তার নাম ইমরান এইচ সরকার। মঞ্চ প্রতিষ্ঠার ৭ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় কাদের মোল্লার। এরপর এই মঞ্চের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশেই।

গণজাগরণ মঞ্চের সেই নেতৃত্বদানকারী ইমরান এইচ সরকার এখন নিভৃতে একাকি দিন কাটাচ্ছেন। পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও কোনো চাকরি করছেন না নিরাপত্তার শঙ্কায়। চিকিৎসা বিষয়ে চালাচ্ছেন গবেষণা। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের নানা জায়গা থেকে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে এখন কোনো আন্দোলন সংগ্রামের সাথেও নেই।

গণমাধ্যমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মেডিকেল গবেষণা করছি। গবেষণার কাজ নিয়েই আছি।

আবার নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে তিনি জানান, করোনার মধ্যে মাঠে নেমে জনসমাগম করলে সবাই সমালোচনা করবে। এ কারণে কর্মসূচি সীমিত ছিল। আমার লাস্ট কর্মসূচিগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে রাজনৈতিক বা রাস্তার কর্মসূচি বা প্রতিবাদ করার বাস্তবতাও খুব একটা নেই। ছোটখাটো কর্মসূচি হয়, বড় পরিসরে কিছু করতে গেলেই সরকারের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত এই তরুণ চিকিৎসক জানান, মাঠের কোনো কর্মসূচিতে এখন নেই। অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদে রাস্তায় না নামলেও দায়বদ্ধতা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসবের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছি। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছি, এতে বাধা আসেনি।

তিনি বলেন, আমি মাঠে নেই-এটা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক। আমি রাস্তায় নামলে অনেকের অস্বস্তি হয়। আমার রাজনীতি বা আন্দোলন কর্মসূচি সবই কিন্তু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সব সময়ই এসব পছন্দ করে না। আমাকে যারা প্রতিপক্ষ ভাবত, তাদের জন্যও আমি অস্বস্তির ছিলাম। কারণ, শাহবাগ অনেকের জন্য বিরাট বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল। আমি রাস্তায় না থাকলে তাদের কাছে মাঠটা ফাঁকা মনে হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের সেই সুযোগটা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মসূচি দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল।

জানা যায়, আগে ঢাকা মেডিকেলে অ্যাডহক ভিত্তিতে অস্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে চাকরি করলেও পরে সেটা স্থায়ী হয়। কিন্তু তিনি করেননি। এখন ঢাকায় বসবাস করলেও কোনো অফিসে যাওয়াকে নিরাপদ মনে হয়না বলে চাকরিও করেন না। ২০১৬ সালে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মেয়েকে বিয়ে করলেও ২০১৮ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর আর বিয়ে করেননি তিনি।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো