বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় এগিয়ে নোবিপ্রবি বিএনসিসি

একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সুস্থ -সংস্কৃতি, ভাষা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কোন বিকল্প হতে পারে না। এসব সংগঠন যে কোন শিক্ষার্থীকে সহনশীল হতে শিখায়। শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি করে দলগতভাবে কাজের অভ্যাস । পাশাপাশি সৃষ্টি করে একতা ও ভ্রাতৃত্ব।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সহ গুচ্ছভুক্ত ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বিগত ১৭ ও ২৪ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো । বিগত বছরগুলোর মতো ভর্তিচ্ছুদের পদাচারণায় মুখর ছিলো গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নোবিপ্রবির আধা সামরিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নোবিপ্রবি বিএনসিসি।

জ্ঞান, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবী এ তিন মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিএনসিসির ক্যাডেটবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্বপালন করে। গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনকে সুষ্ঠু ও সফল করার জন্য বিএনসিসির ক্যাডেটবৃন্দ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সড়কপথের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তপ্ত রোদের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে বিএনসিসির ক্যাডেটবৃন্দ ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

এছাড়াও ভর্তিচ্ছুদের শৃঙ্খলবদ্ধ ও স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক ভর্তি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করানো, আহত ও অসুস্থ ভর্তিচ্ছুদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্য তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ও সফল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহায়তা করে নোবিপ্রবি বিএনসিসি।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবির) বিএনসিসি প্লাটুন-১ এর সিইউও মোঃ নুরুল আবছার তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ” বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আহবায়ক ভিজিল্যান্স ও শৃঙখলা উপকমিটির নির্দেশক্রমে প্রতিবছরের ন্যায় এইবারও আগত পরীক্ষার্থীদের সাহায্য সহযোগিতায় নিরলস ভাবে কাজ করে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি প্লাটুনের ক্যাডেটরা। ভর্তি পরীক্ষার দিন আগত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আসন বিন্যাস সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, সামাজিক দূরত্ব , হ্যান্ড স্যানিটাইজ এবং মাস্ক প্রদান করে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করানো।

এসময়ে তিনি আরো বলেন, “পরীক্ষার্থীরা যেনো কোন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাথে নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে সে দিকে সর্তক দৃষ্টি রাখা,পরীক্ষা কেন্দ্রে কোন পরীক্ষার্থী অসুস্থ বা দুর্ঘটনার শিকার হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া, পরীক্ষার কেন্দ্রে আসতে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোন ধরনের যানজটের শিকার না হয় তার জন্য শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট নিরসনে দক্ষতার সাথে কাজ করে গেছে আমাদের বিএনসিসি ক্যাডেটরা। আর এইসব জনকল্যাণ মূলক কাজের মাধ্যমে ক্যাডেটদের মধ্যে সততা, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং নেতৃত্ত্ববোধের গুনাবলী বিকাশ লাভ করে।

নোবিপ্রবির বিএনসিসির প্লাটুন ২ ( মহিলার) সিইউও নুসরাত জাহান নিশু তাদের নারী ক্যাডেটদের কার্যক্রম নিয়ে বলেন, ” বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছসেবক সংগঠন হিসেবে বিএনসিসি প্লাটুন নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। পুরুষ প্লাটুনের পাশাপাশি মহিলা প্লাটুনের প্রায় বিশজন ক্যাডেট সার্বিক শৃঙ্খলা, তথ্য-সেবা, স্বাস্থবিধি নিশ্চতকরণ প্রভৃতি কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

সিইউও নিশু আরো বলেন “ভর্তি পরীক্ষায় সচারাচর একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। তাই দায়িত্ববোধের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় আয়োজনে অংশ হতে পেরে প্রতিটি ক্যাডেটকে উৎসাহের সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। আমার মনে হয়, ক্যাডেট হিসেবে সবার মধ্যে বিএনসিসির মূলমন্ত্র ও চেতনা চর্চা করার দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটা আবশ্যক। ভর্তি পরীক্ষার মত আয়োজনে অংশগ্রহণ এ চর্চার একটি বড় ক্ষেত্র।”

লেখক-
মোঃ ফাহাদ হোসেন
বার্তা বাজার প্রতিনিধি,
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো