ইউপি নির্বাচন নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিলেন সিইসি

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধ করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। পাশাপাশি নির্দেশ দিয়েছেন প্রার্থিতা বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দশের সকল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, কমিশনার, ডিসি, এসপি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তারদের নিয়ে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

দুপুর দুপুর ১২টা থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী ভার্চ্যুয়াল এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন সিইসি, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। এছাড়াও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

নূরুল হুদা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হয় মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেই তাদের ওঠা-বসা। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভালো প্রার্থী তুলে নিয়ে আসার জন্য মাঠ প্রশাসনকে ভূমিকা রাখতে হবে। ভালো প্রার্থীর নির্বাচন করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের বেশি।

তিনি বলেন, ইউপি একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। সেই ১৭৮৭ সাল থেকে ইউপিতে ভোট হয়ে আসছে। উত্তেজনায়, খুন-খারাবি এখানে আগে থেকেই হয়। তবে এটা কাম্য নয়। অযাচিত ব্যক্তি, সন্ত্রাসী এদের চিহ্নিত করতে আপনাদের গোয়েন্দা আছে, এমনকি চকিদার-দফাদার আছে। তাই গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলে সমস্যা হয় না। দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিইসি বলেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনগুলো পুঞ্জিভূত হয়ে গেছে। একসঙ্গে আমাদের বেশি করে নির্বাচন করতে হচ্ছে। কেননা, নির্বাচন ডিউ রয়ে গেছে। পেছানোর সুযোগ নেই। তাই আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চাপ বেশি হয়ে গেছে। সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট সংকট কাটাতে যারা মন্ত্রণালয়ে বা অন্য দফতরে কাজ করছেন, তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ইসির ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে থাকে। তাই তেমন কোনো ঘটনার সৃষ্টি হলে মাঠ প্রশাসনের সহায়তায় তিনি ব্যবস্থা নেবেন। কোনো কেন্দ্রে ভোট নেওয়ার সম্ভব না হলে ভোট বন্ধ করে দেবেন। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ এলে আমরা একঘণ্টা দেরি করি না। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। কোনো অভিযোগ যদি রিটার্নিং কর্মকর্তারা মাধ্যমে আসে, আমরা তা ফাইলবন্দি করে রাখি না। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিই। যদি কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হয়, তাহলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আমাদের আছে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাদের কাছে অভিযোগ আসতে হবে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো