ঘোষণা ছাড়াই বেড়ে গেল ভাড়া

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিয়মিত চলাচলকারী কয়েকটি বাসের ভাড়া কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই আসন প্রতি ১৪ টাকা করে বেড়ে গেছে। এতে ক্ষুদ্ধ যাত্রীরা বলছেন, তেলের দামের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে অনেকগুন বেশি। তবে মালিকদের দাবি, ডিজেল, ট্যাক্সসহ নানা কারণে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, সরকার বাসের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি। তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও চাষাঢ়া বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহন, আনন্দ পরিবহন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শীতল পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া ৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা, আনন্দ পরিবহন ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা আর শীতল পরিবহনের ভাড়া ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে। তবে আগের মতোই ৩০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে বিআরটিসির দ্বিতল বাসগুলো।

বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের টিকেট কাউন্টারে দেখা যায়, ‘অনেক যাত্রী টিকেট বিক্রেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। অনেকেই টিকিটের দাম শুনে ট্রেনে ঢাকায় যাচ্ছেন।’

সকালে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ আসেন ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে ৩৬ টাকার টিকেটে নারায়ণগঞ্জে এসেছি। এখন দুপুর ২টায় যাচ্ছি তারা বলছে ৫০ টাকা। আমাদের যাত্রীদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। কোন ঘোষণা ছাড়া ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে?’

কলেজ ছাত্র মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘কোন ঘোষণা নাই, সিদ্ধান্ত নাই, হঠাৎ করে ইচ্ছা মতো বাস ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে মালিকেরা। তাদের কিছু বলাও যাচ্ছে না। টিকেট ধরিয়ে দিয়ে বলছে ভাড়া ৫০ টাকা। বেশি ভাড়ায় যাবো না বললেও টিকেট ফেরতও নিচ্ছে না।’

সংশ্লিষ্ট পরিবহনের এক চালক জানান, আমাদের কোম্পানির গড়ে ৫০টি বাস প্রতিদিন চলাচল করে। একটি গাড়ি প্রতিদিন গড়ে ৪ বার আসা যাওয়া করে। আমরা চালকরা প্রতি ট্রিপে ২০০ টাকা ও হেলপার পায় ১০০ টাকা। বাসের আসন সংখ্যা ৪৫টি থাকলেও গড়ে ৪০জন যাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করে। দুপুরে যাত্রী সংখ্যা আরও কমে যায়। একবার যাওয়া আসায় তেল লাগে ১০ থেকে ১২ লিটার। কয়েকটি পুরানো গাড়ি আছে সেগুলোতে গড়ে ১৪ থেকে ১৫ লিটার তেল লাগে। প্রতিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাওয়া আসায় ১২ লিটার তেল খরচ হয়। দাম বৃদ্ধির ফলে ৭৮০ টাকার তেলের পেছনে যাচ্ছে ৯৬০ টাকা। কিন্তু আসা যাওয়ায় গড়ে যাত্রী হয় ৮০ জন। এ হিসেবে ১৪ টাকা ভাড়া বেশি হিসেব করলে ১ হাজার ১২০ টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি নেওয়া হচ্ছে। এটা কমানো প্রয়োজন। কিন্তু মালিকের বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের চাকরি থাকবে না।’

উৎসব পরিবহনের ক্যাশিয়ার আরিফ হোসেন বলেন, ‘বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাসের একই তেল খরচ হয়। আমাদের বাস আছে ৪০টি। গড়ে প্রতিদিন ৩৫টি চলাচল করে। আসন সংখ্যা ৪৪ থেকে ৪৫টি। মালিক পক্ষের সিদ্ধান্তে ভাড়া বেড়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

বন্ধন পরিবহনের পরিচালক মুরাদ হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমরাও বাস ভাড়া বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছি। শুধু তেল নয় চলতি মাস থেকে আমাদের বাৎসরিক ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিন অয়েল এবং টায়ারের দামও বেড়েছে। কিন্তু গাড়ির যাত্রী সংখ্যা বাড়েনি। এসব কারণে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বিআরটিএ থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন পাইনি। পুরোনো ভাড়াই বহাল থাকবে। কেউ যদি অবৈধভাবে ভাড়া বেশি নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।’

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো