ইউপি নির্বাচনে জয়ের অপেক্ষায় শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। তবে এই ১০ ইউনিয়নের প্রার্থীসহ উপজেলাজুড়ে সবার নজর কেড়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফ মিয়া (২৬)।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টিতে দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন।

উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরিফ। ৩২ ইঞ্চি উচ্চতা সম্পন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফকে নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা।

আরিফ একই ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল হালিম মণ্ডলের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিন নম্বর আরিফ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। আধুনিক ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার অলিগলি ও হাটবাজারে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।

গ্রামের সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় তার সমর্থকরাও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা আরিফ এবার ব্যালট যুদ্ধেও জিততে চান।

আরিফ জানান, ২০১৪ সালে উপজেলার চতরা ইকলিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর তিনি চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজে ভর্তি হন। তবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগেই পড়াশোনায় ইতি টানেন।

আরিফ বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আমার নির্বাচনী এলাকা কাবিলপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ৮০০ জন ভোটার। আমি সবার সঙ্গে দেখা করেছি। তারা নিজেদের টাকা খরচ করে আমার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আরও পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন। তারপরও জয়ের সম্ভাবনা দেখছি। কারণ জনগণ আমার সরলতা এবং শারীরিক কারণে আমাকে অনেক ভালোবাসেন। নির্বাচিত হলে উচ্চতায় দেশের সবচেয়ে ছোট জনপ্রতিনিধি হবো আমি। কেননা আমার ওজন ১৭ কেজি। আর উচ্চতা ৩২ ইঞ্চি। আমি নির্বাচিত হলে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে সবাইকে নিয়ে কাজ করবো।

ভোটার আলেমা খাতুন বলেন, আরিফ প্রতিবন্ধী হলেও তার মন মানসিকতা উদার। কোনো অর্থনৈতিক লোভ-লালসা নেই আরিফের। তাই আমরাও চাই আরিফ আমাদের ভোটে মেম্বার নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের সেবায় এগিয়ে আসুক।

এলাকার আরেক ভোটার রফিকুল মিয়া বলেন, যারা আমাদের ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী তাদের মধ্যে শিক্ষিত প্রার্থী আরিফ। সকলের সঙ্গে তার সুস্পর্ক। এলাকায় তরুণদের ভালো জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন তিনি।

ওই ওয়ার্ডের ভোটার আব্দুর রশীদ বলেন, আরিফ ভাই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও একজন ভালো মানুষ। গ্রামের মানুষের কথা ভাবেন। মানুষের উপকারে কাজ করেন। কখনো নিজের প্রতিবন্ধকতার দোহাই দেননি। বরং এলাকার সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন। আমরা তাকে ভোট দেব।

আরিফের সাহস আর অদম্য ইচ্ছা দেখে বিস্মিত উপজেলার মানুষ। স্থানীয় ভোটারা জানান, আর্থিক সংকট থাকায় ভোটাররাই ব্যানার, পোস্টার করে তার পক্ষে গণসংযোগ করছেন। তাদের আশা ভোট যুদ্ধে বিজয়ী হবেন আরিফ।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইমদাদুল হক বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আরিফের শারীরিক সমস্যা থাকায় আমরা তার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

বার্তাবাজার/কা.হা

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো