নাতির কোলে চরে ভোট দিতে এলেন দাদা!

ঠিকমত খেতেও পারি না, নেতারা কেউ তেমন সহযোগিতাও করে না। বয়সের ভারে ক্লান্ত। শরীরের শক্তিও শেষ প্রায়। নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারলেও, হাঁটতে হয় নাতি-নাতনির সহায়তায়। পাড়াপড়শি ও আত্মীয়স্বজনদের সহযোগিতায় কপালে জুটে দুমুঠো ডাল ভাত।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়া বাড়ি থেকে বের হন না প্রায় ৫ বছর। তারপরও ভোট দিতে হবে ৮০উর্ধ্ব বয়সী আসিউল হককে। দাদার এমন বায়নায় কিছু বিরক্ত হলেও বৃদ্ধ দাদাকে খুশি রাখতে কোলে করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসেন ৩১ বছর বয়সী নাতি মো. শরিফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর’২১) সকাল ৯টার দিকে বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসী পাড়া ইউপির দরদরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ওই বয়োজেষ্ঠ ভোটার। ভোট দিয়ে বের হয়ে কান্না করে বৃদ্ধা বলেন, ভোট দিতে আমার ভালো লাগে। তাই এত কষ্ট করে ভোট দিতে আসলাম। তবে যাদেরকে এত কষ্ট করে আমরা ভোট দি, তারা নির্বাচিত হলে কেউ আমাদেরকে দেখে না। কখনো সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসে না। ‘আর বাঁচমু কি না, কে জানে? তাই তো নাতির কোলে করে ভোট দিতে আইলাম। আল্লাহ জানে এইটাই জীবনের শেষ ভোট কিনা!’

নাতী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, দাদা অনেকদিন ধরে ঘরবন্দি। চোখে দেখলেও কানে কিছুটা কম শোনেন। তারপরও ভোটের কথা শুনে ভোট দেওয়ার ইচ্ছাপোষণ করেন তিনি। আমরা নিরুৎসাহিত করলেও তিনি কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে জোরাজুরি করেন। পরে বাধ্য হয়ে দাদাকে খুশি রাখতে ভোট দেওয়াতে নিয়ে আসছি।

তবে বৃদ্ধার ভোট দিতে একটু কষ্ট হলেও, পরে অবশ্য ভোট দিতে পারায় চোখে-মুখে আনন্দ ফুঁটে উঠে। নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আবার নাতির কোলে বাড়ি চলে যান তিনি।

এদিকে রূপসী পাড়ার বেশ দু-একটি কেন্দ্র করে দেখা গিয়েছে ‘ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট দিচ্ছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন বৃদ্ধাকে কোলে করে ভোট কেন্দ্রে এনে ভোট দিতে দেখা গিয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগির জানান, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো রকম ঝামেলা হয়নি। জাল ভোট দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ প্রশাসন বিভাগও কঠোরতম দায়িত্ব পালন করেছেন।’

এম.মিজানুর রহমান/বার্তাবাজার/কা.হা

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো