‘আমরা অমানুষ না, তাই খালেদা জিয়াকে বাসায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারাদণ্ডে দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, বাকিটা আইনগত ব্যাপার।

গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলন, লন্ডন এবং প্যারিসে সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পর বুধবার এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি তেল, পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে তার পরিবারের করা আবেদন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা অমানুষ না। অমানুষ না বলেই তাকে অন্তত তার বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু, নির্বাহী ক্ষমতা আমার হাতে যতটুকু আছে, আমি সেটুকু দিয়ে তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার। আর কত চান?”

খালেদা জিয়াকে যে বাসায় থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে, বাসায় রেখে চিকিৎসা করতে দেয়া হচ্ছে- এটাই কি বেশি নয়? এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় খালেদা জিয়া সম্পর্কে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির সাথে অতীতের তিক্ততা সম্পর্কে নানা কথা বলেন তিনি।

অনেক প্রসঙ্গে উত্তর দিলেও জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকি সম্পর্কে তিনি বেশ লম্বা সময় ধরে কথা বলেন।

সম্প্রতি ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সেকারণে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের উপরে এর প্রভাব নিয়ে বেশ আলোচনা রয়েছে।

সেনিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে সরকারকে বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়।

শুধু জ্বালানি খাতেই ভর্তুকির পরিমাণ ২৩ হাজার কোটি টাকা।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ইতিমধ্যেই এত টাকা আমরা ভর্তুকি দেই। আর কত টাকা ভর্তুকি সরকার দিতে পারবে? বাংলাদেশের নিজের তো কোন সম্পদ নেই।”

তাকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

তিনি বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আওয়ামী লীগ তার দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যাচ্ছে। দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি বলেন, “ঘটনাচক্রে কিছু কিছু ঘটনা যখন ঘটে যায়, সাথে সাথে কিন্তু সেটার তদন্ত হয়। অন্যায়ভাবে যদি কেউ কোন ঘটনা ঘটায়, সেটা র‍্যাবই হোক, পুলিশ হোক, যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং তাদের বিচারও হচ্ছে।”

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর আগেও সহিংসতা হয়েছে, এখনো হচ্ছে এবং সেটি তার সরকার চায় না।-বিবিসি বাংলা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো