খালেদাকে বিদেশ না পাঠালে সরকার পতনের আন্দোলন: ফখরুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো না হলে শীঘ্রই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২০ নভেম্বর) বিকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅনশন কর্মসুচির সমাপনী বক্তব্যে মির্জা ফখরুলসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকারকে খুব পরিষ্কার ভাষায় আমরা এ গণঅনশন থেকে বলে দিতে চাই যে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। তা না হলে এবার যে আন্দোলন শুরু হলো গণঅনশনের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন আপনাকে গদিচ্যুত করবে।

তিনি বলেন, আগামী ২২ নভেম্বর দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসা করার দাবিতে এবং একইসঙ্গে তার মুক্তি দেওয়ার দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও সারাদেশে মহানগর-জেলা-উপজেলাগুলোতে সমাবেশ হবে। এ সমাবেশে আমরা আবারও এ দাবি নিয়ে সামনে আসবো। তারপরে যদি না হয়, আমরা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

দেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি আজকে এত অসুস্থ যে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন। আমরা ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি বার বার, বিদেশে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছেন, দেশনেত্রীর বাংলাদেশে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব। তার (খালেদা জিয়া) পরিবার থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল তাকে বিদেশে ট্রিটমেন্ট করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। তারা সেই সুযোগ দেয়নি। উপরন্তু পার্লামেন্টে সংসদ নেত্রী এমন ভাষায় কথা বলেছেন যে ভাষা কোনো মতে গ্রহণযোগ্য নয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমাদের জীবন-মরণের সমস্যা, আমাদের অধিকারের সমস্যা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এদেশের মাটির সঙ্গে একেবারে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছেন। মা ও মাটি বলতে আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বুঝি। নেত্রীকে অবশ্যই আমাদের মুক্ত করতে হবে। সেজন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা প্রস্তুত আছি।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশ পাঠানো ও মুক্তির দাবিতে শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে এ গণঅনশন কর্মসূচি। রাজধানীর মত বিভাগীয় ও জেলা শহরেও চলে এ কর্মসূচি।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো