মেয়র জাহাঙ্গীর আউট: যেভাবে হবে গাজীপুরের বণ্টন

বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে কটুক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দল থেকে চিরতরে বহিস্কার হয়েছেন গাজীপুরের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। একসময় পুরো মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি একা দাপিয়ে বেড়ানো এই নেতা এখন একা। কেউ তার পাশে নেই।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আজমত উল্লাহ খান। তাছাড়া গাজীপুর-১ আসনের সাংসদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল গাজীপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকলেও মেয়র জাহাঙ্গীরের আড়ালে পড়েছিলেন। জাহাঙ্গীরের অধ্যায় শেষে তারা আবারও নতুন করে শুরু করেছেন হিসাব।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫টি জাহিদ আহসান রাসেলের নির্বাচনী এলাকায় এবং ১৮টি আ ক ম মোজাম্মেল হকের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পড়েছে। জাহাঙ্গীর আলমকে বহিষ্কারের পর এই তিন নেতা সমঝোতার মধ্য দিয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগকে পরিচালনা করতে চাইছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এমনটা জানিয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, ২০১৩ সালে আজমত উল্লাহ খানকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নানের কাছে পরাজিত হন। এর পেছনে জাহাঙ্গীর আলমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন আজমত উল্লাহর কর্মী-সমর্থকরা। সেই নির্বাচনের পর থেকে দুই নেতার বিরোধ ছিল। ২০১৮ সালে জাহাঙ্গীর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জাহিদ আহসান রাসেলের অনুসারীদের সঙ্গেও এক ধরনের দূরত্ব বাড়ে। দলীয় নেতাদের মধ্যে এসব মেরুকরণে কোনো পক্ষ নেননি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তবে এবার জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের পর সব পক্ষই খুশি।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, নিজস্ব কিছু লোক নিয়ে চলতেন জাহাঙ্গীর। দলের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। তিনি বহিষ্কার হওয়ায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। আওয়ামী লীগের পুরনো, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নেবেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরকে সরিয়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। জাহাঙ্গীর ছাড়া গাজীপুরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ সব নেতা ঐক্যবদ্ধ আছেন। আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছি। আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব নেই, হবেও না। এখানে অনেক ভালো নেতা আছেন। তাঁদের নেতৃত্বে সংগঠন এগিয়ে যাবে।’

এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে আছেন। গতকাল ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনিরের সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষে একজন আহত হয়।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো