চাঁপাইনবাবগঞ্জে নজিরবিহীন নির্বাচনী সহিংসতা: স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি ও সহিংসতার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন। সোমবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তার কর্মীদের উপর হামলা, হুমকি ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি খুবই ভয়ংকর। প্রতিনিয়ত ঘটছে সহিংসতার ঘটনা। শহরজুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নির্বাচনে যা হচ্ছে সে দৃশ্য সভ্য সমাজে কল্পনা করা কঠিন।

তিনি বলেন আমার বয়সে বিগত অনেকগুলো নির্বাচন আমি দেখেছি। গত পৌরসভা নির্বাচনে আমি নিজেও সরকারি দল মনোনীত প্রার্থী ছিলাম। তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত এমপিও ছিলেন। সবধরনের সক্ষমতা থাকার পরও অনিয়ম বা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ আমরা করিনি। শুধু তাই নয়, এর আগে কখনোই চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনকেন্দ্রিক এত সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

লিটন বলেন, তফসিল অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর সোহেল, রিপন, জাহিদুল, দুলাল, মিলন ও দিদার নামে ৬ কর্মীর উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। পিটিয়ে আহত করা হয়েছে তাদের। এছাড়াও গত ২৬ অক্টোবর নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে আমার ৯টি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ২০ নভেম্বর শহরের বিদিরপুরে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করা হয়েছে। ২১ নভেম্বর রাতে শহরের মসজিদপাড়া, শিবতলা মোড়, পুরাতনবাজার ও ধানুর মোড়ের মোট চারটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করা হয়েছে।

এরা কারা? যারা প্রতিনিয়ত হামলা আর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করছে। এদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। আমরা দেখতে চাই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন আরও বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে- নৌকার কর্মীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার অফিসে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে এমন পরিকল্পনাও করছেন। এমন খবরে আমরা আতঙ্কিত।

তিনি বলেন, সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের আগে সহিংসতা রোধে যে ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, দৃশ্যতই চাঁপাইনবাবগঞ্জে তা নেয়া হয়নি।

আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাধিক অভিযোগ দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আশা করবো জনগণকে সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটপ্রদানের সুযোগ করে দিতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সামিউল হক লিটন, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ দ্রুতই গ্রহণ করা উচিত আমরা চাই, অপরাধীদের যেমন শাস্তি নিশ্চিত হোক, তেমনি নিরপরাধ মানুষেরও নিরাপত্তা প্রদান করা হোক। নির্বাচন কর্মকর্তার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয়দের অভয় দেয়া উচিত। নতুন করে যেন কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটে, তাও নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় তিনি জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন- নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ করতেই হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী লিটনের বন্ধু দুলাল, জুয়েল ও রিঙ্কুসহ জেলার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটনের তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়াও আচারণবিধি তদারকিতে যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন তার কাছেও অভিযোগের কপি পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। ভোটাররা যাতে সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবো।

আব্দুস সোবহান তারেক/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো