মা হয়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তরুণী, বাবা হতে চাচ্ছে না ধর্ষক মাহবুব!

ফুটফুটে এক নবাজতক কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক গৃহকর্মী। রবিবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এ সন্তানের জন্ম দেন। অসহায় এ গৃহকর্মী মা হলেও বাবা হতে চাচ্ছে না ধর্ষক মাহবুব আলম।

এই ঘটনাটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ভেলকুগছ গ্রামে। সন্তান প্রসবের পর হতভাগা এ শিশুর পিতৃত্ব অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। সদ্যজাত শিশু কী পাবে পিতৃত্ব পরিচয়, পাবে কী পিতার আলিঙ্গনের আদর স্নেহ! হাজার প্রশ্ন উঠলেও ক্ষীন হয়ে উঠেছে স্বপ্ন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জয়নাবের চাচা জাহিদ জানান, রোববার রাতে তার প্রসব ব্যথা উঠলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। ভোরে ভোরে সে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। মা-শিশু দুজনই সুস্থ্য রয়েছে। কিন্তু ভূমিষ্ঠ এ শিশু খুবই অভাগা। যে তার জন্মদাতা, সে ও তার পরিবার মেনে নিতে চাচ্ছেন না। তারা সন্তান জন্মের আগেই প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার চেষ্টা করছিল।

বিষয়টি ধামাচাপার দেওয়ার চেষ্ঠা করেছিল ধর্ষকের পরিবার। এই বিষয়টি সব মহলে জানাজানি হলে সন্তানটি নষ্ট করতে পারেন নাই । বিষয়টি থানায় মামলা হলে দুদিন পওেন ভোর রাতেই র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ধর্ষক মাহবুব। বর্তমানে ধর্ষক মাহবুব কারাগারে রয়েছে। বাচ্চা হওয়ার পর তারা কোন যোগাযোগ করেনি। বর তারা এ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন প্রকার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলা শালবাহান ইউনিয়নের মুহুরীহাট ভেলকুগছ গ্রামের উপজেলা প্রকৌশলীর সার্ভেয়ার (অব.) জয়নাল আবেদীনের বাসায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন ওই নারী। এ সুযোগে বাড়ির মালিকের ছেলে আবু তার সাথে একাধিকবার ধর্ষণে অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে গৃহকর্মী তরুণী।

গত ১৯ নভেম্বর মেয়েটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। খবরটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর মেয়ের বাবা জয়নাল বিয়ের প্রস্তাব দিলেও কাজ হয়নি।

ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, সদ্যজাত শিশুর পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করে মা ও শিশুকে পরিবারে মেনে নেয়া। তা নাহলে এক অসহায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীর সাথে উপর্যুপরী ধর্ষণের দায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তবে অভিযুক্ত আবুর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার জয়নাল আবেদীন বার্তা বাজারকে জানান, ঘটনার পর থেকেই আমি ছেলের সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে ঘরে তুলতে রাজী ছিলাম। এখনো রাজি আছি। কিন্তু সমঝোতায় আসতে পারিনি। বর তারা আমার ছেলেকে আসামী করে থানায় মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

মো: আল আমিন/বার্তা বাজার/শাহরিয়া

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো