কুমারখালীতে সম্ভাবনাময় শিল্প ‘ফুল ব্যাগ’

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌর এলাকার তেবাড়িয়া গ্ৰামে। সমাজের অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও সুবিধা বঞ্চিত নারীরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন ফুল ব্যাগ তৈরি করে। তাদের তৈরি এ সকল ব্যাগ কুষ্টিয়া শহরসহ দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যাগ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে শতাধিক নারী। যাদের অনেকেই এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এমন দেশীয় পণ্যের উদ্যোক্তাদের আলোর পথ দেখিয়েছে এই শিল্প।

এটি মূলত ঢাকনা যুক্ত এবং ঢাকনা ছাড়া দুভাবেই বানানো হয়। ফুল ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কাপুর, কভার, ফোম। ব্যাগ গুলো সাইজ অনুযায়ী তৈরি হয় বলে দামেও তারতম্য রয়েছে। সম্পূর্ণ সেলাই মেশিনে তৈরি, এই ব্যাগগুলোর সুবিধা হল এগুলো সহজেই ধোয়া ও ব্যবহার করা যায় অনেক দিন। মূলত এলাকার নারীরা এই ব্যাগগুলো বানায়। তবে এখন অনেক পরিবারের মেয়েরাও এটি বানিয়ে থাকে। মেয়েদের একটা বিকল্প কর্মসংস্থানের জায়গা হলো এই ব্যাগ শিল্প।

ছবি- বার্তা বাজার।

উপজেলা ফুলব্যাগের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন অনলাইন সহ দোকানে বিক্রি হচ্ছে এই ব্যাগ। এছাড়াও পর্যটকরাও এখান থেকে ব্যাগ হাতে করে নিয়ে যায়।

বাজারের কসমেটিক ব্যাবসায়ী বিশ্ব জানান, হাতে তৈরি পণ্যগুলো বরাবরই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।

আর এক ব্যবসায়ী মমিনুল বলেন, ফুল ব্যাগগুলো অল্প দামে পাওয়া যায়। পণ্যের মান ঠিক রেখে ভালো ও মজবুত ব্যাগ সবার হাতে পৌঁছে দিতে পারছি। এটাই আমার ব্যবসার মূল লক্ষ্য।

ফুল ব্যাগ কারিগর মোছাঃ ডলি জানান, ফুল ব্যাগের চাহিদা অনেক। গুনগত মান ভালো হওয়াতে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। এই কাজ করে প্রতিদিন ৫ শ’ থেকে ৭ টাকা আয় করা সম্ভব। প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আমি এই ফুল ব্যাগ তৈরি করে ইমকাম করি। এতে করে সংসারে অভাব দুর হচ্ছে।

হারুন শেখ বললেন, এই কাজ করে প্রতিদিন হাজার টাকা ইনকাম করা যায়, বাড়ির সবাই মিলে এই কাজ করা যায়। আমাদের এলাকায় বিশেষ করে বাড়ির মহিলারা এই কাজ করে সাবলম্বী হচ্ছে।

সুমন রহমান অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তিনি বলেন, এই কাজ করে তার লেখাপড়ার খরচ ও সংসারে সাহায্য করতে পারছি। আগে বাড়ী থেকে টাকা নিতে হতো, এখন বেশ ভালো আছি’ কারো কাছে হাত পাততে হয় না।

ফুল ব্যাগ ব্যাবসায়ী মিঠুন কুমার বলেন, লেখা পড়া শেষ করে চাকরির পিছনে না ছুটে। ব্যাগের ব্যবসা শুরু করি দুই বন্ধু মিলে। বেশ ভালো সারা পেয়েছি। অল্প দিনেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ব্যাগ শিল্প। দেশীয় এমন পণ্যকে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার সামনে তুলে ধরতে পেরেছি। একদিন বিদেশের মাটিতেও আমারপণ্য ছড়িয়ে দিতে চাই।

পৌর ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুহিন শেখ বললেন, কুমারখালী একটি শিল্প এলাকা হাওয়ায় সুবাদে তেবাড়িয়া গ্ৰামের বেশ কিছু শিল্প উদ্যোক্তা রয়েছে।

সমাজের সুবিধা বঞ্চিত নারীরা এখানে কাজ করে। অসহায় নারীদের বেঁচে থাকার একটি অবলম্বন করে দিয়েছে এই ব্যাগ শিল্প।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল জানান, আমাদের জনসংখ্যা বেশিরভাগই যুব সমাজ। আমরা আনন্দিত এই যে, কুমারখালীতে বেশ কিছু উদ্যোক্তা খবর পাওয়া যাচ্ছে। তেবাড়িয়া গ্ৰামের মিঠুন ও নিমাই তারা ফুল ব্যাগ ও কুসুম কভার তৈরি করে সাবলম্বী হচ্ছে। সেই সঙ্গে এলাকার নারীদের সাবলম্বী করে তুলছে।এই ধরনের উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই, এবং তাদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করবো। তাদের তৈরি পণ্য বাজারে আরো সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করবো।

মোশারফ হোসেন/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো