৩ বার নির্বাচন করেছেন, এবার বয়স না হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদপ্রার্থী ইসমত আরা আগে ৩ বার নির্বাচনে লড়াই করলেও এবার তার বয়স হয়নি মর্মে প্রার্থিতা বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র যাচাই বাচাইয়ের শেষদিন তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

কিন্তু ২০১১ সালের নির্বাচনে একই এলাকা থেকে পাশ করেন ইসমত আরা। ২০১৬ সালে পরাজিত হন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদেও তিনি প্রার্থী হন

খোঁজ নিয়ে জানা জানা গেছে, ইসমত আরার প্রকৃত বয়স ৪০ বছরের কাছাকাছি। তাঁর ২০ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে ইসমত আরা তাঁর মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন। এরপর তিনি এইচএসসিও পাস করেন। ইসমত আরা তাঁর এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনে বয়স কমিয়ে দেন। পরে এসএসসি পাসের সনদ দিয়ে বয়স কমিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করেন।

রুকিন্দীপুর ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে বলেন, রুকিন্দীপুর ইউপির সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপদপ্রার্থী ইসমত আরার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৯৬ সাল উল্লেখ রয়েছে। তিনি ১৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত ইসমত আরার বয়স ২৪ বছর ১০ মাস ২১ দিন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ২৫ বছরের নিচে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। ইসমত আরার বয়স ২৫ বছরের কম হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসমত আরার আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইসমত আরা বলেন, আমার মেয়ের বয়স ২০ বছর। শিক্ষার কোনো বয়স নেই জেনে আমি আমার মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। পরে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। তখন অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বয়সের মিল রেখে ও সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ পেতে আমিও বয়স কমিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করেছি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ২৫ বছরের কম হওয়ায় সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্যপদে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর আগে আমি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। আবারও একই পদে প্রার্থী হয়ে বয়সের সীমার বিষয়টি জেনেছি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলাম। এসব প্রমাণপত্র নিয়ে আমার প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে আপিল করব। সবকিছু বিবেচনায় প্রার্থিতা ফিরে পাব বলে আশা করছি। আমার প্রকৃত জন্ম সাল ১৯৮২।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো