ইউপি নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা নিয়ে যত কথা

দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের প্রার্থীরা ভোট কেনার টাকার ছড়াছড়ি করবেন এমনটা আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বস্তিবাসী দরিদ্র লোকজনের ভোট কেনাবেচা হবে এই বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসতেছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলছেন, এরই মধ্যে টাকা এবং পেশি শক্তির ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু দৃশ্যমান না হওয়ায় এ সবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নিতে পারতেছেন না নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন মহল। এই কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। বিঘ্ন হতে পারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

সরেজমিনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে, বিশেষ করে বাংলাবান্ধা, বুড়াবুড়ি, ভজনপুর ইউনিয়নে ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দরিদ্র ভোটারদের ভোট নিজেদের বাক্সে নিতে তৎপর টাকাওয়ালা প্রার্থীগুলো।

কালদাস পাড়া গ্রামের ভোটার লিপা বেগম বলেন, ভোট তো কিছু কেনাবেচা হয়ই। এ কারণেই গ্রামের লোকজনের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু সবাই যে টাকা নিয়ে যে ভোট দেয় তা কিন্তু ঠিক নয়। এবারও ভোট কেনাবেচা হবে এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়েই কানাঘুসা আছেই।

নাম বলতে অনিচ্ছুক এক রিকশাচালক বলেন, টাকা খাব কিন্তু ভোট দিব না। কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামের লোকজনও তো রাজনীতি করে। তাই নিজের দলের রাইখা অন্য দলের প্রার্থীকে ভোট দিব না।

শিলাইকুঠি এলাকার বাসিন্দা গমির বলেন, শুনতাছি প্রতিটি গ্রামে একটি দল গঠন করা হয়েছে। আর এই দলের প্রতিটি সদস্যকে সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে ২০০ শত টাকা করে দেওয়া হয়। প্রতিক বরাদ্দ হওয়ার পরে প্রতি সদস্যকে ৫০০ টাকা করে দিবে বলে তিনি জানান।

ভোটের আগেই টাকা ওয়ালা প্রার্থীরা ভোটারকে টাকা দেয়। কোন প্রার্থী ভোটের আগে টাকা দিবে এমন কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, টাকা ওয়ালা প্রার্থী ছাড়া টাকা কে দিবে।

বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা টাকা ছাড়বে এমন কথায় এক যুবদল কর্মী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বার উভয়ে টাকা দেয় এবারের নির্বাচনে ভোটের দুই দিন অথবা ভোটের আগের রাতে টাকা দিবে।

স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়। যার কারণে ভালো ব্যক্তিটা হারিয়ে বসি আমরা। কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ না হলে যোগ্য ব্যক্তিটিকে হারিয়ে বসব।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছায়েম মিয়া বলেন, কোনো প্রার্থী ভোট কেনার জন্য কালো টাকার ছড়াছড়ি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এম আল-আমিন/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো