পীরগঞ্জে জেলে পল্লীতে হামলার মুলহোতার নাম জানাল র‍্যাব

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পেছন থেকে নেতৃত্ব দেন সৈকত মণ্ডল (২৪) নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক মন্তব্য ও মিথ্যা পোস্ট করার মাধ্যমে গুজব ছড়ীয়ে সাধারণ মানুষদেরকে উত্তেজিত করে তুলেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গি থেকে সৈকত ও রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়। সৈকতের বাবার নাম রাশেদুল হক, রবিউলের বাবার নাম মোসলেম উদ্দিন। তাদের উভয়ের বাড়ি পীরগঞ্জে।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ঘটনার দিন একটি মসজিদ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করেন সৈকতের সহযোগী রবিউল ইসলাম (৩৬)। এরপরই হামলা চালানো হয়। পীরগঞ্জের বড়করিমপুরে পরিতোষ সরকার ও উজ্জ্বল নামের দুই তরুণের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে পরিতোষের ধর্ম নিয়ে উজ্জ্বল কটূক্তি করেন। পরে পরিতোষ ফেসবুক মেসেঞ্জারে উজ্জ্বলের ধর্ম নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন। পরিতোষের ওই মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করেন উজ্জ্বল। উজ্জ্বলের ওই পোস্ট সৈকত আবার তার নিজের ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে দেন।

র‌্যাব কমান্ডার বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই সৈকত নানা উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছিলেন। পরিতোষ ও উজ্জ্বলের দ্বন্দ্বের ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছিলেন সৈকত। তার একটি ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে তার প্রায় ৩ হাজার অনুসারী রয়েছে। সৈকত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে একটি ‘দুর্বল সময়ের’ জন্য অপেক্ষা করছিলেন।তিনি পরিতোষের বার্তাকে কেন্দ্র করে উসকানি ছড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৈকতের পেছনে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা কিছু বলেননি।এ ছাড়া সৈকতের রাজনৈতিক কোনো পরিচয়ের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি র‌্যাব।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো