ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকেট না থাকায় বেপরোয়া ‘চাঁদাবাজ’ এটেনডেন্টরা

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন আখাউড়া। আর এই আখাউড়া স্টেশন হয়ে চলাচলকারী প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের এটেনডেন্টের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আর এসবের সুবিধা নিচ্ছেন টিটিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অথচ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে এই অঞ্চলের যাত্রীদের প্রথম পছন্দ ট্রেন। তবে এসব ট্রেনে যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্রগ্রাম-নোয়াখালী-সিলেট ও ময়মনসিংহে এই স্টেশন হয়ে প্রতিদিন সবমিলিয়ে ১৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে থাকে। এইসব ট্রেনে প্রতিদিন যাত্রী চলাচল করে প্রায় তিন হাজার আর এর বিপরীতে আসন সংখ্যা খুব সীমিত।

ঢাকা থেকে আখাউড়ায় ট্রেন যোগে যাওয়া আসার পথে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায় যাত্রীদের কাছ থেকে। তাঁরা বলছেন, এটেনডেন্টদের হাতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। ট্রেনে টিটি থাকলেও তাদের যোগসাজশেই চাঁদাবাজি চলছে। অনেক সময় টিটির কাজ করতে দেখা যায় এটেনডেন্টদের। স্ট্যান্ডিং টিকিট বন্ধ থাকার সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলতে বেপরোয়া তারা । টাকার বিনিময়ে এসব যাত্রীকে বসানো হয় ট্রেনের নামাজের স্থান, রেস্তোরাঁ এবং মেঝেতে।

যাত্রীদের অভিযোগ, টিটি টিকিট না দেখলেও এটেনডেন্টরা টাকা নিচ্ছে। অন্যথায় মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানার ভয় দেখানো হচ্ছে। বাধ্য হয়েই তাঁরা যা চায়, তা কমবেশি করে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের এক অ্যাটেনডন্ট বলেন, ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট না থাকায় অনেক যাত্রী টিকিট ছাড়াই ট্রেনে ওঠে। টিটি টিকিট চেক করলে জরিমানায় পড়তে হবে। তাই সকলকে ম্যানেজ করে কিছু যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। আমাদের বেতন অল্প, তাই এভাবেই চলতে হয়।’

মহানগর এক্সপ্রেসের একজন এটেনডেন্ট বলেন, আপনারা লিখলে আমাদের সমস্যা হবে। স্ট্যান্ডিং টিকিট না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে যেসব যাত্রী যায় তাদের ভালোর কথা চিন্তা করেই বড় রকমের জরিমানা যাতে না দিতে হয় সে ব্যবস্থা করি, এতে আমাদের অল্প টাকা আয় হয়। আয়ের টাকা আবার ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্লাটফর্মে দায়িত্বে থাকা টিসি (টিকেট কালেক্টর) এ এইচ এম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ট্রেন চালু হলেও স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে টিকেট ছাড়া কোনো যাত্রী পেলে রেলওয়ের আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করে থাকি তারপরও লোকজন টিকিট ছাড়া ট্রেনে উঠছে। তাঁদের দুয়েকজনের কাছ থেকে হয়তো কিছু টাকা পয়সা এটেনডেন্ট নিতে পারে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া স্টেশনের সুপারিন্টেনডেন্ট মো.কামরুল হাসান তালুকদার জানান, আখাউড়া থেকে যাত্রীর তুলনায় ট্রেনে আসন সংখ্যা খুবই সামান্য। এটি একটি বড় সমস্যা। এখানে যাত্রীর প্রচুর চাপ রয়েছে, তার উপর করোনার কারণে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া বন্ধ রয়েছে। আমরা মাইকিং করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে চেষ্টা করি যাতে করে বিনা টিকেটে কেউ ট্রেনে উঠতে না পারে। তরপরও কিছু যাত্রী হয়ত বিনা টিকেটে উঠে যায় তখন ট্রেনের ভেতরে কি হয় না হয় সেটা আমরা দেখতে পারি না। এটেনডেন্টদের বিষয়টা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

হাসান মাহমুদ পারভেজ/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো