মাদ্রাসার হিসাব চাওয়ায় ভাগ্নেকে নিয়ে অপহরণের নাটক সাঁজালেন মুহতামিম

সিলেটের গোলাপগঞ্জে অপহরণ নাটক সাজিয়ে এলাকাবাসী ও একই মাদ্রাসার শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের মছকাপুর ফয়জে জলিল আতহারিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মঞ্জুর আহমদ ও মুহতামিমের ভাগ্নে মাদ্রাসার শিক্ষক মাশহুদ আহমদের বিরুদ্ধে।

হয়রানির শিকার ওই মাদ্রাসার শিক্ষক সুহেল আহমদ বলেন, ‘গত ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার হিসাবের জন্য মুহতামিম তার অনুসারী কয়েকজনকে নিয়ে সভা করার কথা ছিল। বিগত দিনে বারবার মাদ্রাসার কমিটি তার কাছে টাকা-পয়সার হিসাব চাওয়ায় তিনি হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করতেন। ঘটনার দিন দুপুরে মুহতামিমের ভাগ্নে একই মাদ্রাসার শিক্ষক মাশহুদ আহমদ অন্য শিক্ষকদের সাথে আলোচনা না করেই প্রত্যেক শ্রেনী কক্ষে নোটিশ দেন যে, মাদ্রাসা আগামী দুই দিন বন্ধ থাকবে। মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা মাদ্রাসা বন্ধের কারণ জানতে চান। এ সময় শিক্ষক মাশহুদ বলেন, মুহতামিম সাহেবের নির্দেশ।

সুহেল আহমেদ আরও জানান, তখন শিক্ষকরা মাশহুদকে বলেন মুহতামিম সাহেবের সাথে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি দেননি। পরে মাশহুদ মাদ্রাসার ছাত্রদের জোর করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন। খবর পেয়ে অভিভাবকরা মাদ্রাসায় আসেন। এসে ওই শিক্ষকের কাছে তাড়াতাড়ি ছুটি ও মাদ্রাসা আগামী দুইদিন বন্ধের কারণ জানতে চান। কিন্তু তাদেরকে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন।

তিনি জানান, এসময় একজন অভিভাবক তাকে ঘাড় ধরে মাদ্রাসার ভিতরে ঢুকাতে চাইলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের মানুষ জড়ো হন। এরপর সবাই মিলে শিক্ষক মাশহুদ ও বাধা দেওয়া অভিভাবকের মধ্যকার বিষয়টি সমাধান করে দেন। পরে তাকে দুপুরের খাওয়ার শেষ করিয়ে সবাই বাড়িতে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে দেন।

সুহেল জানান, পথিমধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌঘরী নামকস্থান থেকে মুহতামিম মঞ্জুর আহমেদের আরেক ভাগ্নে একই মাদ্রাসার শিক্ষক মনসুর আহমদসহ আরও দুইজন মাশহুদ আহমেদকে আটকিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। অপহরণ বলতে ওইদিন কিছুই হয়নি। অপহরণের ঘটনার একেবারেই সাজানো।

এসব ঘটনার পর শিক্ষক মাশহুদ আহমদ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দেন। কিন্তু এই অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই একলাছ বলেন, ‘অপরণ বলতে কিছুই হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো। যে সিএনজিতে ওই শিক্ষক গিয়েছিলেন সেই গাড়ির চালকের সাথে কথা বলেছি। চালকও জানিয়েছেন এটি মিথ্যা। চৌঘরীতে যাওয়ার পর মনসুর আহমদ নামে আরেকজন গাড়ি থেকে শিক্ষককে নামিয়ে হসপিটালে নিয়ে যাবেন বলে নিয়ে যান। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথেও আমার কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে শুক্রবারে তারা একটি সভা ডেকেছেন।

এদিকে আরেক ভুক্তভোগী মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মান কমিটির প্রধান লায়েক আহমদ খান বলেন,’ অনেক দিন থেকে মাদ্রাসার মুহতামিম সাহেবের কাছে কাজ শেষ হওয়ায় টাকার হিসাব জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোন ভাবেই সেই টাকার হিসাব দিতে রাজি হননি। ঘটনার দিন রাতে তিনি ওনার আয়ত্তের ভিতরের কয়েকজনকে নিয়ে তায়্যিবা সেন্টারে সভার আয়োজন করেন। এর আগেই টাকার হিসাব না দেওয়ার জন্য তিনি ওনার ভাগ্নেকে দিয়ে এ দিন দুপুরে পরিকল্পিত ভাবে ঘটনা সাজান। যাতে তার মাদ্রাসার হিসেব দিতে হয়না।

অটোরিকশা চালক মো. রাশেদ আহমদ বলেন, হাত-পা বাঁধার বিষয় সম্পূর্ণ ভূয়া। চৌঘরী নামকস্থানে গেলে শিক্ষকের খালাতো ভাই মনসুরসহ আরও দুইজন আমার গাড়ি থেকে ওনাকে নামিয়ে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার মুহতামিম মঞ্জুর আহমদ ছালিমের কাছে জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল মুঠোফোন একাধিকবার কল করলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে বলেন, তিনি মোবাইল রেখে অন্য স্থানে চলে গেছেন। কখন আসবেন জানতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন।

মাদ্রাসার শিক্ষক মাশহুদ আহমদেরও মুঠোফোনে বার বার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী বলেন, ওইদিন এমন কোন অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। দায়ের করা অভিযোগের
কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ফাহিম আহমেদ/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো