নারীদের আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানোর দায়ে তরুণী গ্রেফতার

টিকটক ও শর্টফিল্মের মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের ডেকে এনে আটকে রাখতো একটি চক্র। পরে নির্যাতন করে ওইসব তরুণীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতো। তবে মুক্তিপণ আদায়ের পর এসব তরুণীদের বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতো চক্রটি । যারা মুক্তিপণ দিতে পারতো না তাদের দিয়ে জোরপূর্বক করানো হতো দেহব্যবসা। এসব অনৈতিক কাজের নেতৃত্বে থাকা ২৩ বছর বয়সী নূরিতা ওরফে সুরাইয়া নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীর। এ সময় থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

শাহাবুদ্দিন কবির জানান, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে এমন সুন্দরী মেয়েদেরকে টার্গেট করে যাদের অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা আছে- সেসব মেয়েদের জন্য ফাঁদ পেতে চক্রের প্রধান নুরিতা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা বলে তাদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করতো । পরে টিকটক ও শর্টফিল্মের অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনে বিভিন্ন জায়গায়। এরপর সেখান থেকে কৌশলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া করা ফ্লাটে। হাত-পা বেঁধে করা হয় জিম্মি। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। মুক্তিপণ না পেলে জিম্মি করা নারীদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা।

তিনি আরও জানান, গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চক্রটি সোনিয়া নামে এক তরুণীকে শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের কথা বলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে আনে । সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় তাকে । এরপর তাকে বিবস্ত্র করে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সোনিয়া তার পরিবারের কাছে থেকে আট হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়ে আসার পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের নির্জন স্থানে ফেলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে মডেল সোনিয়া ও তার অবিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ ও কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাবুদ্দিন কবীরের সার্বিক দিক নির্দেশনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার সে বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে নুরিতাকে আটক করে। অভিযানকালে একই কায়দায় টাংগাইল থেকে অভিনয়ের কথা বলে আনা কথিত অপর মডেল সুমিকেও উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় আসামি মারুফ আহম্মেদ সৌরভ ওরফে ওয়াশিম কৌশলে পালাইয়া যায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নুরিতার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। পিতার নাম আলমগীর ফকির। মডেল হওয়ার আশায় সেও একদিন ঢাকায় পাড়ি জমায়। প্রায় ৫ বছর পূর্বে নুরিতার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নুরিতা আশুলিয়া থানায় বর্তমান পার্টনার মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সেই মামলায় মারুফ জামিনে আসার পর নুরিতা স্বেচ্ছায় মারুফের সঙ্গে যোগ দিয়ে এভাবে নারীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের পথ বেছে নেয়। একজন নারী হওয়ায় সহজেই অন্য নারীদের বশে আনতে পারতো নুরিতা। এ কারণে এক সময় দলের প্রধান হয়ে উঠে।

ওসি আরও জানান, চক্রটিতে কারা কারা জড়িত, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা আহমেদ/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো