ইউপি নির্বাচন: আ’লীগ ও বিদ্রোহী গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন নিহত ও অসংখ্য আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চরাঞ্চল পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে নিহতরা হলেন, কাচারিকান্দি গ্রামের মলফত আলীর ছেলে সাদির মিয়া (১৯) ও আসাদ মিয়ার ছেলে হিরণ মিয়া (৩৫)।

জানা গেছে, কাচারিকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য শাহ আলমের সাথে সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলমের বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। এই বিরোধের জেরেই বৃহস্পতিবার তারা দেশিয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বর্তমান মেম্বার শাহ আলম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাসুদুর রহমানের সমর্থক ও সাবেক মেম্বার ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলম নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান ফেরদৌস কামালের লোক।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ১৭ ও ১৮ মে ওই এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে ইউপি সদস্য শাহ আলমের পক্ষের লোকজন গা ঢাকা দেন। ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁরা আবার এলাকায় ফিরে এলে বিরোধীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে টেঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য শাহ আলম ও ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলম—দুজনের সঙ্গেই একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁদের দুজনেরই মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পাড়াতলী ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফেরদৌস কামাল জানান, ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলম নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। অন্যদিকে, ইউপি সদস্য শাহ আলম বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির মেজবাউদ্দিন আবু নূরের হয়ে কাজ করছেন। ইউপি সদস্য শাহ আলমের পক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকার পর আজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁদের গুলিতে তাঁর দুজন কর্মী-সমর্থক মারা গেছেন এবং ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।

এদিকে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদুর রহমান জানান, ‘যেহেতু নির্বাচনের মাঠে আছি, সেহেতু শুধু ইউপি সদস্য শাহ আলম কেন, এই এলাকার সবাই আমার কর্মী। তবে আজকের এই হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শুধু শুনেছি গোলাগুলি হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন, দুজন মারা গেছেন। কারা এর সঙ্গে জড়িত, সেটা জানি না।’

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান জানান, ইউপি নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো