মামলার কাজে বৃদ্ধা মায়ের কাছেই গেলেন বিচারক

৭৫ বছরের বৃদ্ধা জাহানূর বেগম বড় ছেলের সংসারে থেকেই জীবন চালাচ্ছেন। চিকিৎসা ও ভরণ পোষণের খরচ বহন করতে কলেজ শিক্ষক বড় ছেলে হিমশিম খেলেও খবর নেয়না স্বচ্ছল অপর ছেলে। মেয়েও নেয়না খবর। পাশপাশি নিজের জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করার সুযোগও দিচ্ছে না অন্য সন্তানেরা। তাই বাধ্য হয়ে ভরণ পোষণ আইনেই মামলা দায়ে করেন তিনি।

হাটচলা করতে অক্ষম জাহাণূর বেগম বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বড় ছেলেকে দিয়ে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কবির উদ্দীন প্রামাণিক আবেদনটি পাঠান অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহর আদালতে। এরপর বিচারক মাসুম বিল্লাহ মামলার আরজিটি গ্রহণ করে এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে নগরের বিএম কলেজ এলাকার বৈদ্যপাড়া এলাকার ভাড়া বাড়িতে যান। সেখানে বিচারক মাসুম বিল্লাহ শয্যাশায়ী জাহানূর বেগমের জবানবন্দি নেন।

জবানবন্দি দেওয়ার সময় হানুর বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কী করলাম, আমি কী করলাম! গ্রামে আমার স্বামীর অনেক সম্পদ ছিল। বড় ছেলের ওপর বহু বছর পড়ে আছি। কয় টাকা বেতন পায়। ওর সংসার, আমার ওষুধপত্র কিনে ছেলেটা দম ফেলতে পারে না। মেজ ছেলে, এক মেয়ে কোনো খোঁজ নেয় না। জমি বিক্রি করে আমার চিকিৎসা করাব, তা-ও বিক্রি করতে দেয় না।’

জানা যায়, বাগেরহাটের শরণখোলার বাসিন্দা জাহানূরের স্বামী সিরাজুল ইসলাম ২০১৪ সালের মারা গেছেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেজ ছেলে খুলনায় বেশ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছোট মেয়েটিরও ভালো ঘরে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারা কেউ মায়ের খোঁজ নেয় না। এখন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী জাহানূরের অস্ত্রোপচারের জন্য কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন।

জাহানূর বেগমের জবানবন্দি গ্রহণের পর বিচারক মাসুম বিল্লাহ ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিকেল চারটায় মামলাটি গ্রহণ করে মেজ ছেলে ও ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে সমন জারি করছেন। আগামী ১ ডিসেম্বর তাঁদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, ‘এটা অভূতপূর্ব ঘটনা। বিচারক নিজেই এই অভিযোগ তদন্ত করতে বাদীর বাড়িতে ছুটে গেছেন। আমরা গিয়ে যা দেখেছি, তা খুবই মর্মান্তিক। কোনো মা যেন জীবিত অবস্থায় অবহেলা-বঞ্চনার শিকার না হন। জাহানূর বেগম অনেক অসুস্থ। ভেঙে ভেঙে কথা বলেন। বলছিলেন, “বাবা, কতটা নিরুপায় হলে একজন মা সন্তানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেয়।”’

তিনি বারও জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে জাহানূর বেগমের চিকিৎসার জন্য সরকারের চিকিৎসা সহায়তা তহবিল থেকে আমরা তাঁকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো