অবশেষে মোটা শিশুদের ভর্তি নিচ্ছে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল

ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্প্রতি ২০২২ সালে তাদের প্লে গ্রুপে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি যোগ্যতা ও নিয়মাবলীর শর্ত জুড়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

এসব শর্ত অগ্রহণযোগ্য ও বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা ওঠার পর প্লে গ্রুপে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিতর্কিত শর্তগুলো থেকে এখন সরে আসার কথা জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুলটির গভর্নিং বডির সভাপতি ম. তামিম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মূলত শিশুদের বয়স যাচাইয়ের জন্য ওইসব শর্ত দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু এর মাঝে কিছু শর্তে ভাষার ব্যবহারে ভুল থাকায় এবং কিছু শর্ত বিতর্কিত হওয়ায় তারা সেগুলো থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে বিকল্প আর কোন কোন উপায়ে শিক্ষার্থীর সঠিক বয়স নির্ধারণ করা হবে সে বিষয়ে তারা এখনও আলোচনা করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি স্কুলটি ২০২২ সালে প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি যোগ্যতা ও নিয়মাবলীর শর্ত জুড়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

যোগ্যতার শর্ত ও উপ-শর্ত
মূলত শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অংশে তিনটি শর্ত দেয়া হয়। সেগুলো হল:

বয়স: ১লা জানুয়ারি ২০২২ সালে শিক্ষার্থীর বয়স ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
* উচ্চতা: ৩ ফুট থেকে ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি এর মতো হতে হবে।
* ওজন: ১৩ কেজি থেকে ২১ কেজির মধ্যে হতে হবে।

এই অংশে আরও তিনটি উপ-শর্ত দেয়া হয়েছে।

* শিক্ষার্থীর সকল দুধদাঁত (২০টি) অটুট থাকতে হবে।
* শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।
* ছোঁয়াচে রোগ থাকলে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে না।

সেইসাথে ওই বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে যে লটারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও কোন শিক্ষার্থী যদি শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অংশে উল্লেখিত কোন প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, যেমন তাদের ওজন, উচ্চতা যদি কম বা বেশি হয়ে থাকে তাহলে ওই শিক্ষার্থী ভর্তির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ
প্লে গ্রুপে শিশু শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের শর্তকে বৈষম্যমূলক, আপত্তিকর ও মানহানিকর বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

স্কুল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের শর্ত আরোপকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক সৈয়দা তাহমিনা আখতার।

তার মতে, প্লে গ্রুপে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বয়স একটি বিবেচনার বিষয় হতে পারে, কিন্তু তার ওজন, উচ্চতা ও স্বাস্থ্য কখনোই স্কুলে ভর্তির যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না।

মিসেস আখতার প্রশ্ন তোলেন, “লটারি করে শিক্ষার্থী নেবে। এখানে ওজন আর উচ্চতা আবার কেমন শর্ত? ম্যানেজিং কমিটি এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নিল? এগুলো তো শিক্ষার্থীর যোগ্যতা হতে পারে না।”

“অসুস্থতা থাকলে ডাক্তার দেখাবে। তাছাড়া একেকটা বাচ্চার গ্রোথ, তাদের ওজন, উচ্চতা একেক রকম। বয়সের বাইরে আর কোন শর্ত থাকাই তো উচিত না।”

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে মি. ম তামিম জানান মূলত বয়স যাচাই করার জন্যই ওই শর্তগুলো দেয়া হয়েছিল।

কারণ অনেকেই তিন বছরের বাচ্চা কিংবা ৬/৭ বছরের বাচ্চাকে ৪/৫ বছরের বাচ্চা বলে প্লে গ্রুপে ভর্তি করাতে আসেন।

এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের ওপরও তারা পুরোপুরি নির্ভর করতে পারেন না।

এমন অবস্থায় ওই শিশু ভর্তিচ্ছুদের বয়স নির্ধারণে তাদের ফিজিক্যাল চেক আপই একমাত্র উপায়।

সেজন্যই ওইসব শর্ত দেয়া হলেও মি. তামিম জানান যে কয়েকটি শর্তে কিছু ভুল ছিল।

তিনি বলেন, “চার বা পাঁচ বছরের বাচ্চার সর্বোচ্চ ওজন আর উচ্চতা কেমন হতে পারে সেটা অনুমান করেই শর্তগুলো দেয়া হয়েছে। তবে এটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। এটা ভুল হয়েছে।”

এছাড়া শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বলতে, শিশুদের কথা বলা বা অন্য শিশুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারার সক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে।

“অনেক বাচ্চা আছে যারা হয়তো সময় মতো কথা বলতে শেখেনি। একদমই চুপ থাকে। প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এই বাচ্চাদের বিশেষ মনোযোগের প্রয়োজন, যা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ কারণে কোন শিশুর ভর্তি আটকে দেয়ার নজির নেই,” বলেন মি. তামিম।-বিবিসি বাংলা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো