দলীয় সিদ্ধান্ত অবমাননা করলেন অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ান!

সম্প্রতি গত ১৯ অক্টোবর ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গঠনের সময় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মেহেদী মাসুদ মঞ্জু, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ শাহাবুদ্দিন মাদবর, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ভুইয়া, ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান শাহেদ, ইয়ারপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান রাজু আহমেদ প্রমুখ সহ আওয়ামী লীগ এর এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

তবে এই সম্মেলনে খোদ ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন না। বরং এই কমিটি গঠনের পর গণমাধ্যমে সদ্য গঠিত কমিটি নিয়ে নানান অভিযোগ করেন। পরে গত বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) তিনি তাঁর সমর্থিত লোকজন নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তিনি গণমাধ্যমকে নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটিতে কয়েকটি পদ অর্থ-বাণিজ্যের মাধ্যমে দেবার অভিযোগ তোলেন ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান শাহেদ এবং আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ফারুক হাসান তুহিন এর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তাকে ছাড়াই ওই ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন হয়েছে বলেও জানান।

তবে এক্ষেত্রে তিনি আশুলিয়া থানা কমিটিকে এসংক্রান্ত কোনো ধরণের লিখিত অভিযোগ না দিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেছেন বলে জানিয়েছে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগ। এব্যাপারে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ফারুক হাসান তুহিন জানান, অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ানের যদি কোনো অভিযোগ থাকে তিনি সেটা দলীয় ফোরামে জানাতে পারতেন কিংবা লিখিত অভিযোগ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে সরাসরি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করে প্রকারান্তরে দলের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন।

জানতে চাইলে ভিডিও বক্তব্যে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক স্বনির্ভর ধামসোনা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ান যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা আমরা সোস্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, অত্যন্ত নিম্নমানের বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। তিনি আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক এর বিরুদ্ধে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সেটা তিনি দিতে পারেন না। কারণ ওই ওয়ার্ড কমিটিতে গঠনের সময় আহবায়ক ছিলেন না এবং এব্যাপারে তিনি অবগত নন এবং আমিও অবগত নই। তাও কাদির দেওয়ান মিডিয়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তিনি দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেছেন, এব্যাপারে দল সাংগঠনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

এব্যাপারে মুঠোফোনে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলার কাছে জানতে চাওয়া হয়। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, দলীয় ফোরামে না জানিয়ে সরাসরি বিক্ষোভ মিছিল কেউ করতে পারে না। আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ছাড়া ওয়ার্ড কমিটি করাটাও সাংগঠনিক ভাবে ঠিক না।

তবে যে সম্মেলনে ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়েছিলো, সেই সম্মেলনের প্রধান বক্তা সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মেহেদী মাসুদ মঞ্জুর কাছে এসব ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ছাড়া ওয়ার্ড কমিটি গঠন সাংগঠনিক ভাবে কতটুকু ঠিক হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি ইচ্ছে করে না আসে সেখানে দলীয় কর্মকান্ড তো আর বন্ধ থাকবে না। আর সাংগঠনিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যেখানে অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ানকে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বানানো হয়েছিলো, সেই তিনিই দলীয় ফোরামে না জানিয়ে মাঠে নেমে সাংগঠনিক ব্যর্থতার কথা জানান দেন, এটা বড্ড হাস্যকর ব্যাপার।

তিনি জানান, যেখানে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, কাউকে দলের পদ দিতে হলে তাকে আগে ন্যুণতম তিন (০৩) বছর দলের সাধারণ সদস্য পদ নিয়ে থাকতে হবে। কিন্তু ২০০৯ সালে তৎকালীন সাংসদ সম্মেলন ছাড়াই কাদির দেওয়ানকে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বানান। এর আগে কাদির দেওয়ান এর আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের কোথাও কোনো সদস্য পদ ও ছিলো না। তাহলে তিনি তো অসাংগঠনিক পদ্ধতিতেই পদ লাভ করেছেন।

এসময় দেওয়ান মেহেদী মাসুদ মঞ্জু জানান, কাদির দেওয়ান এর বিষয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন তিনি ছাত্রজীবনে শিবির এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছেন ধামরাই শরিফবাগ মাদ্রাসা থেকে। পরে জিরাবো স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে সাভার কলেজে পড়েন এবং এই কলেজে থাকাকালীন তিনি শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাতের আমির জসীম উদ্দিনের সুপারিশে শিবিরের কোটায় ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আশরাফ উদফিন খান ইমু’র বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু’র সাথে নির্বাচনী প্রচারনা করেছেন অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ান। যার এরকম ব্যাকগ্রাউন্ড তিনি কিভাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হন তা আমার বোধগম্য নয়।

তবে এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ কাদির দেওয়ান এর সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। পরে মুঠ্যফোনে তাকে লাগাতার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোঃ আল মামুন খান/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো