মামলা নিষ্পত্তি: পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। রোববার (৩১ অক্টোবর) দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত নারাজির শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।

এদিন বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ মামলার বাদীর অনুপস্থিতিতে চূরান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেন। পাশাপাশি ভার্চ্যুয়ালি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। তবে বাদী উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি শেষে আদালত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্যে দিয়ে এ মামলার ১১ আসামি অব্যাহতি পেলেন। এর আগে গত ৩১ আগস্ট মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণের জন্য ধার্য ছিল।

মামলার বাদী সালমান শাহের মা প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেবেন বলে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। এরপর আদালত শেষ বারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৩১ অক্টোবর নতুন এ দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করলেও পরের বছরের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগটি রুপান্তরের আবেদন করেন।

তার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন আদালত। একই বছরের ৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। সেখানে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের পিতা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। এরপর পিবিআই তদন্ত করেছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো