এহসান গ্রুপ কেলেঙ্কারি: সাবেক হেফাজত নেতা কারাগারে

দেশের আলোচিত এহসান গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় অর্থ আত্মসাতের মামলায় হেফজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সলিম উল্লাহকে কারাগারে পাঠানর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহারের আদালত এই আদেশ দেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমেক নিশ্চিত করে জেলা আদালতের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক হেফাজত নেতা সলিম উল্লাহ জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

কারাগারে যাওয়া হেফাজত নেতা সলিমউল্লাহ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পাশাপাশি ফটিকছড়ির নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষা পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নাজিরহাট ফারুকিয়া মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক।

আদালতের একটি সূত্র জানায়, সলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০১৭ সালে মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা করেন। সে মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওই মামলায় জামিন নিতে গেলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

মামলার বাদী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাওলানা সলিম উল্লাহ ২০০৭ সালে নাজিরহাটে এহসান সোসাইটি চালু করেন। এই প্রতিষ্ঠানকে ইসলামি শরিয়াভিত্তিক ও সুদমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুদ না খেয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার জন্য স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি আলেম হওয়ায় তাঁর কথায় বিশ্বাস করে সবাই হিসাব খোলেন।

তখন গ্রাহকদের বলা হয়, তাঁদের জমানো টাকা ছয় বছরে দ্বিগুণ বা ইসলামি শরিয়া মোতাবেক কমবেশি হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ডিপিএসের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে আট বছর করা হয়। তখন শর্ত দেওয়া হয়, মেয়াদপূর্তির আগে কোনো লভ্যাংশ গ্রাহককে দেওয়া হবে না। এভাবে অন্তত আট বছর অর্থ লেনদেন করার পর গ্রাহকদের ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার শেষ মুহূর্তে তাঁরা গা ঢাকা দেন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো