একসাথে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন সাদিয়া, লাগেনি সিজার

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গর্ভধারণের ৫ মাসের মাথায় সাদিয়া খাতুন (২৪) নামের ওই গৃহবধূ শিশু জন্ম দেন। ৫ শিশুর মধ্যে চারজন মেয়ে ও এক ছেলে।

নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রসব হওয়ায় বাচ্চাগুলোর ওজন কম হয়েছে। মা সুস্থ থাকলেও বাচ্চাগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। দায়িত্বরত চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (০২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো ওই পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি সাদিয়া। তিনি কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার সোহেল রানার স্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫-৬ মাসের মাথায় সাদিয়া বাচ্চা প্রসব করেছেন। একসঙ্গে পাঁচ বাচ্চার প্রসবে অনেক ঝুঁকি ছিল। তবে মা সুস্থ থাকলেও ওজন কম হওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে বাচ্চাগুলো। শিশুদের দেখতে হাসপাতালের রোগী ও রোগীর স্বজনরা ভিড় করছে।

শিশুর ছোট ফুফু রাবেয়া বলেন, সোমবার রাত ১০টায় হাসপাতালে আসি। আমরা খুবই খুশী। শিশুর মা সুস্থ রয়েছে। নরমালে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। ৬ মাস ১০ দিনের মাথায় বাচ্চা জন্ম দিয়েছে।

শিশুর বাবা সোহেল রানা বলেন, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সাদিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন সোহেল রানা। সোহেল রানা একই উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার সামাদ আলীর ছেলে। সোহেল ইমাম-সাদিয়া দম্পতি প্রথমবারের মতো মা-বাবা হলেন।

বাবা সোহেল বলেন, খুবই ভালো লাগছে। অনুভূতি প্রকাশের ভাষা পাচ্ছিনা। মা সুস্থ রয়েছে। কিন্তু শিশুর ওজন কম হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যেতে বলছে চিকিৎসক। শিশুদের অক্সিজেন চলছে। তারা শিশু ওয়ার্ডের দুই নম্বর রুমের নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গাইনী ওয়ার্ডের ৭ নম্বর শয্যায় রয়েছেন।

দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা বলেন, সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে ১৫ মিনিট পরই তিনি পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। তাকে আগের রাতে (সোমবার) ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মা সুস্থ রয়েছে কিন্তু শিশুরা ঝুঁকিতে আছে।

জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহীন আক্তার সুমন বলেন, বাচ্চাদের শারীরিক ভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসা চলছে। তবে ঝুঁকি কিছুটা ঝুঁকি আছে। বাচ্চাদের ওজন কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে অথবা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাচ্চাগুলোর ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। তবে এই মুহূর্তে মা সুস্থ আছে।

মোশাররফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো