চরমোনাই পীরের হাতপাখাকে হারাতে এক হলো আ’লীগ-বিএনপি!

জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্পর্কের বৈরীতার থাকলেও বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেখা মিলেছে সখ্যতার। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ইউনিয়নে নৌকার পক্ষে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি। সে অনুযায়ী উভয় দল চালিয়ে যাচ্ছেন তৎপরতা।

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব পাশে অবস্থিত সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম চরমোনাই। ১৯ বছর ধরে এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অসন্তোষ দীর্ঘ দিনের। এবার আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না দিলেও হাতপাখার প্রার্থীকে হারাতে আওয়ামী লীগের সাথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সম্প্রতি চরমোনাইর রাজারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে চরমোনাই ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে থাকার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন।

চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম রাঢ়ী এ প্রসঙ্গে বলেন, চরমোনাই পীর-পরিবার বিএনপির চিরশত্রু। তাই জেলা বিএনপির নির্দেশে পীর-পরিবারের প্রার্থীকে পরাজিত করতে তাঁরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে থাকবেন।

রাজনীতিতে দুই দলের বৈরী অবস্থানের মধ্যেও বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে—জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তখনকার প্রার্থী বিএনপির বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের ওপর হামলা করেছিল চরমোনাই পীর-পরিবার। ইউনিয়নটিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পীর-পরিবার দ্বারা নির্যাতিত। এ কারণে স্থানীয় বিএনপি এবারের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সমর্থন দেবে।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন বলেন, দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে জেলা সভাপতি নির্বাচন ইস্যুতে যেভাবে কথা বলেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত মত। জেলা বিএনপি আওয়ামী লীগ কিংবা চরমোনাই কাউকেই সমর্থন দেয়নি।

কেননা, চরমোনাই আঞ্চলিকভাবে বিএনপিকে নির্যাতন করে। আবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন করে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ জিয়াউল করীমকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো