তিস্তা ব্যারেজের গ্রাসে সড়ক পারাপার হতে লাগছে নৌকা

উজানের পাহাড়ি ঢালে এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস সড়ক ভেঙে যাওয়ার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

জানা যায়, ভারতের গজলডোবার সব জলকপাট খুলে দিলে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরে বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সে.মি.ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টার দিকে ৭০ সে.মি ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এতে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিস্তা ব্যারাজে পানির চাপ সামলাতে বুধবার (২০ অক্টোবর) তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টের সব জলকপাট খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ফ্লাড বাইপাস সড়কটি ভেঙে যায়। লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার হয়ে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা চলাচলের এই সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে দুই জেলার হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্যালোমেশিন চালিত নৌকায় চরে ফ্লাড বাইপাস সড়কের ভাঙন পারাপার হচ্ছে মানুষ। নৌকায় চরে পাড় হতে জনপ্রতি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ২০-৩০ টাকা করে। ভাঙা এলাকা দেখতে ফ্লাড বাইপাস পাড়ে ভিড় করেছেন হাজারো উৎসুক জনতা। এছাড়াও তিস্তার তীরবর্তী পানিবন্দি এলাকার মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

তবে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ সে.মি. নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে মানুষ।

এছাড়াও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, সিঙ্গীমারী এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈলমারীসহ লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে চারাঞ্চল ও তিস্তার তীরবর্তী আবাদ করা হাজার হাজার ফসলি জমি পানির নিচের তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় পানির তোড়ে কাচা-পাকা অধিকাংশ সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে জেলার লক্ষাধিক মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বন্যার্তদের জন্য ৭০ মেট্রিকটন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রান বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো