শেরপুরে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় রোপা আমনের ক্ষেতজুড়ে নানা রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষককে এসব রোগবালাই দমনে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইতিমধ্যে মাজরা ও খোলপচা রোগ নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন করে কারেন্ট পোকার আক্রমণ কৃষকদের দিশেহারা করে তুলেছে। দ্রুত এসব পোকার আক্রমণ দমন করা না গেলে অন্য বছরের চেয়ে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে গেছে। চাষ হয়েছে ২২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে বিনা-৭, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান বিআর-১১, স্বর্ণা-৫, কাটারীভোগ, ব্রি-ধান-৩২ ও উচ্চ ফলনশীল রকমারি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এরইমধ্যে জমিতে কমবেশি পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই উপজেলার দশটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এসব জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। রোপা-আমনের ক্ষেতজুড়েই রয়েছে বিভিন্ন রোগবালাই। যা দমন করতে প্রতিনিয়তই কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে কৃষকদের। এরপরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে কারেন্ট পোকা নিয়ে কৃষকরা বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।

কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া এলাকার চাষী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। ধানচাষের মাঝামাঝি সময়ে এসে জমিতে মাজরা ও খোলপচা রোগের আক্রমণ হয়। তিন থেকে চার দফা কীটনাশক প্রয়োগের ফলে এসব রোগের আক্রমণ কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু নতুন ভাবে দেখা দিয়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। যা কোন ভাবেই দমাতে পারছিনা।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের উচরং গ্রামের শাহাদত হোসেন ও ঘোলাগাড়ী গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার আমন মৌসুমের শুরু থেকেই তুলনামূলক পোকার আক্রমণ একটু বেশি। তাই রোগবালাই দমনে দফায় দফায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্যান্য রোগ কমে গেলেও কারেন্ট পোকার আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই পোকা দমনে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। পোকা মাকোড়ের আক্রমণে আমাদের সোনালী স্বপ্ন বিবর্ণ হতে চলেছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মোসাম্মাৎ জান্নাতুল ফেরদৌস এ প্রসঙ্গে বলেন, জমিতে ধান চাষ করলে রোগ বালাই থাকবেই। পোকা ও বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তাই কারেন্ট পোকা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এটাও নিয়ন্ত্রন হবে বলে আমি আশাবাদি।

রাশেদুল হক/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো